শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৯ মার্চ) শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। সভায় শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, "শিক্ষাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ধীরে ধীরে বাড়িয়ে জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।"
সভায় জানানো হয়, দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগাতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কর্মক্ষম তরুণদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও সরকারি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
শিক্ষানীতির লক্ষ্য হিসেবে জীবনমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে সভায় জানানো হয়, শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। এছাড়া 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে 'তৃতীয় ভাষা' শিক্ষা চালু করা, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। এছাড়া পর্যায়ক্রমে 'মিড-ডে মিল' চালু, ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা, ডিজিটাল এডু-আইডি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, "শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।" গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
