মোংলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাছের ঘের দখল চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ, আহত ৪
মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নে পৈতৃক ও ইজারা নেওয়া একটি মাছের ঘের দখলচেষ্টা, হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ইউনিয়নের আগা মাদুরপাল্টা কবিরাজ বাড়ির দিঘির পাড় সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে ঘের মালিকসহ অন্তত ৪ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন ইউনিয়ন জুড়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা মো. আনসার সরদারের পৈতৃক এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ হয়ে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে একই এলাকার প্রভাবশালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম মৃধার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম মৃধা, জালাল মৃধা ও হানিফ হাওলাদারসহ ১০-১২ জনের একটি দল ঘেরটি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে হানা দেয়। হামলাকারীরা ঘেরের পাহারাদার (গৈ-ঘর) ও মালিকপক্ষকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় এবং ঘেরের ঘর ভাঙচুরসহ মালামাল লুটপাট করে।
এ সময় বাধা দিলে হামলায় ঘের মালিক মো. আনসার সরদার, আবু মুছা সরদার ও মামুন সরদারসহ মোট ৪ জন রক্তাক্ত জখম হন। পরে আহতদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মোংলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
ভুক্তভোগী আনসার সরদার অভিযোগ করে বলেন, 'পৈতৃক ও বৈধভাবে ইজারা নেওয়া জমিতে আমরা মাছের ঘের করে আসছি। কিন্তু ফারুকুল ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী জোরপূর্বক আমাদের উচ্ছেদ করে ঘের দখল করতে চায়। বাধা দেওয়ায় তারা আমাদের ওপর হামলা, মারধর ও ঘেরে লুটপাট করেছে।'
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম ও ফারুকুল ইসলাম মৃধা তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাতিজা মো. আকরাম সরদার বাদী হয়ে তরিকুল ইসলাম মৃধা, ফারুকুল ইসলাম মৃধা, মো. জালাল মৃধা ও মো. হানিফ হাওলাদারসহ ১০-১২ জনকে আসামি করে মোংলা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
