মশা নিধনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মাসব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু
সম্প্রতি মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও 'ক্রাশ প্রোগ্রাম' শুরু হয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে (সুখনগর-গ্রিন মডেল টাউন-মান্ডা খাল) এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অভিযানের সূচনা করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
এসময় মো. আবদুস সালাম বলেন, 'মশক নিয়ন্ত্রণে আমরা আজ থেকে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছি। এই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে চার স্তরে (ওয়ার্ড পর্যায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/সচিব পর্যায় এবং প্রশাসক পর্যায়) নিবিড় তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।'
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, 'মশক বিস্তার বিবেচনায় ৭৫টির মধ্যে ১০টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মাসব্যাপী মশক নিধনের যাত্রা শুরু হলো। নগরের প্রতিটি মহল্লায় এ অভিযান চলবে৷ ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার না রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। জনগণকে সচেতন হতে হবে। তাদের সহযোগিতা না পেলে কোনো উদ্যোগই সফল হবে না। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত ক্লিন সিটি গ্রিন সিটি বাস্তবায়ন করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় ইমামদের সম্পৃক্ত করা হবে এবং মাইকিং কার্যক্রম চলবে। তবে নাগরিকরা সচেতন না হলে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে অঞ্চলভিত্তিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।'
তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও এই সেবা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তিনি বলেন, 'অপেক্ষাকৃত অনুন্নত ও নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এলাকাগুলোতে সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। মশার প্রজননস্থল হিসেবে পরিচিত খালগুলো উদ্ধার ও দখলমুক্ত করতে সিটি কর্পোরেশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ২৫০ জন কর্মী অংশ নেন।
তারা খাল, ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাত পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার ওষুধ প্রয়োগ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও 'বিডি ক্লিন'-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি জনসচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
