বসুন্ধরায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ২ জনের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পৃথক দুই বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় বসুন্ধরা আই ব্লকের ১০ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে শেখ মো. শাওন (২২) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ভাটারা থানা পুলিশ।
নিহত শাওন ঢাকার নবাবগঞ্জের কাশিমপুর গ্রামের শেখ মো. মিনহাজের ছেলে। তার বাবা দেশের বাইরে থাকেন। তিনি মা ও বোনের সঙ্গে বসুন্ধরায় মামার বাসায় থাকতেন। তিনি বিদেশ যাওয়ার জন্য আইএলটিএস করছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির ভাটার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক বলেন, 'গতকাল রাতে সেহরি খাওয়ার পর শাওন তার রুমে চলে যায়। আজ বিকাল সোয়া ৩টার সময় তার মামা শামীম কাউসার তাকে ডাকলেও কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন, তিনি ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ফাঁস নিয়েছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।'
তিনি আরও বলেন, 'সুরতহাল শেষে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।'
এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি-ব্লকের একটি বাসা থেকে মাহমুদা আক্তার ওরফে জেরিন (২৭) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ভাটার থানা পুলিশ।
নিহত জেরিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার খোরশেদ আলীর মেয়ে। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থী ছিলেন।
তিনি বসুন্ধরার ওই বাসায় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
এ বিষয়ে ওসি মো. ইমাউল হক বলেন, 'দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে দরজা লাগানো দেখতে পেয়ে পাশের কক্ষের অন্য শিক্ষার্থীরা ভাটারা থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে কক্ষটির দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় জেরিনের লাশ উদ্ধার করে'
তিনি বলেন, 'ঢাকায় তার কোনো নিকট আত্মীয় নেই। পরে খবর পেয়ে তার মামা আসেন। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'দুইটি ঘটনাই আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।'
