কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার: চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেয় ছিনতাইকারীরা, বলছে র্যাব
চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বাহিনীটি বলছে, মধ্যরাতে বাস থেকে নামার পর ওত পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের কবলে পড়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
র্যাব বলছে, ছিনতাইকারীদের আঘাত এবং চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বুলেট বৈরাগীর।
এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন। গতকাল (২৬ এপ্রিল) কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, ২৪ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত।'
তিনি বলেন, ঘটনার রাতে কুমিল্লায় বাস থেকে জাগরঝুলি এলাকায় নামেন বুলেট। এই সময়ে ওত পেতে থাকা অবস্থায় ছিনতাইকারীরা ভুক্তভোগীকে টার্গেট করে। ভুক্তভোগী বুলেট বাস থেকে নামলে ছিনতাইকারীরা তার গন্তব্য জানতে চান। বুলেট জাঙ্গালিয়া যাবেন জানালে তারা তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন। পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলেটকে আঘাত করেন তারা। ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মুঠোফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। বুলেটকে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লার রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার ৯ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনার পূর্বাপর সম্পর্কে নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী জানান, বুলেট তার একমাত্র ছেলে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে ওঠেন তিনি। রাত আড়াইটার দিকে পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। সে সময় তিনি কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস থেকে নেমে রাজগঞ্জের বাসায় যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে পরিবারের দাবি, রাত আড়াইটার পর বুলেটের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কয়েকবার কথা বলে। এরপর থেকেই তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে সড়কে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের একটি দল মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
