প্রথম কর্মদিবসে যে ১০ বিষয়ে গুরুত্ব দিলেন গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আজ তার প্রথম কার্যদিবসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য একটি নতুন কর্মপন্থা ও সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা দিয়েছেন। তার মূল বার্তা ছিল—"কথা কম, কাজ বেশি।"
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে বাইরের কোনো চাপ বা প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে একটি পুরোনো গাড়িতে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনের সামনে এসে নামেন নতুন গভর্নর। কয়েক ডজন টেলিভিশন ক্যামেরা ও সংবাদকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরলেও তিনি তাৎক্ষণিক কোনো দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেননি। তিনি শুধু বলেন, 'এসেছি, কাজ শুরু করি, তারপর কথা বলা যাবে।'
গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি সকল ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর তিনি রেগুলেটরি বডির মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান। রেগুলেটর হিসেবে মিডিয়াতে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভালো। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যেকোনো বক্তব্য—পজেটিভ বা নেগেটিভ—সমাজে প্রভাব ফেলে।'
গভর্নর কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, "আপনারা যদি বাইরে থেকে কোনো ধরনের চাপ পান, আমাকে জানাবেন। আমরা কারো প্রেসারের ভিত্তিতে কাজ করব না।" এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হারানো ঐতিহ্য ও কর্মকর্তাদের ইমেজ পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গভর্নরের দেওয়া সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনাগুলো সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। মুখপাত্র জানান, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সুদের হার কমানো এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গভর্নর যে বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তা উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত মূল বিষয়গুলো হলো:
১. সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখে প্রবৃদ্ধি বা গ্রোথ বাড়াতে হবে।
২. প্রবৃদ্ধি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
৩. বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে হবে।
৪. বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
৫. পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা তথা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৬. প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৭. বিভিন্ন বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ বা উদ্দেশ্যভিত্তিক।
৮. ব্যাংকিং খাতে নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে।
৯. কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বা 'ডেলিগেশন অব অথরিটি' বাড়াতে হবে।
১০. সরকারের অন্যান্য সংস্থার সাথে যথাযথ সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।
১১. সর্বোপরি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রথম দিনে গভর্নর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কোনো দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেননি। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করেন।
