যুক্তরাষ্ট্রের ১৫% শুল্কের পর আপাতত আলোচনা নয়, অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশসহ সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আগামীকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় না যাওয়া এবং স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন (রেটিফিকেশন) না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "বুধবার মূল স্টেকহোল্ডার রপ্তানিকারক ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। এর বাইরে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।"
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপের পর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি এখনও কার্যকর হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ রেটিফিকেশন সম্পন্ন করে পরস্পরকে নোটিফিকেশন দেওয়ার মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে।
সচিব বলেন, "বাংলাদেশ আপাতত চুক্তিটি রেটিফিকেশন করবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি রেটিফিকেশন করে আমাদের নোটিফিকেশন পাঠায়, তখন আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো। তখন আমরা জানতে চাইতে পারবো, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এ ধরনের শুল্ক বাতিল করার পরও তারা কোন ভিত্তিতে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "যেহেতু সব দেশের ওপর ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তাই বাংলাদেশকে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা না দিলে আমরা কেন চুক্তি মেনে চলবো—সে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে।"
মাহবুবুর রহমান বলেন, "আমরা আপাতত চুপচাপ থাকবো। আগ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবো না। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুমোদন করে আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই।"
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করার পর অন্য আইনের আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সচিব বলেন, এ শুল্ক যদি সব দেশের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তাহলে বাংলাদেশের করার তেমন কিছু থাকবে না। তবে দেশভেদে শুল্ক কমানোর সুযোগ থাকলে বাংলাদেশ সে বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবে।
