অনুভূতি ‘অম্লমধুর’; নির্বাচিত সরকার নিজেদের লোক বসাবে, এটাই স্বাভাবিক: বিদায়বেলায় তাজুল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির (চিফ প্রসিকিউটর) পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এই পরিবর্তনের পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তাজুল ইসলাম। তিনি এই পরিবর্তনকে 'স্বাভাবিক প্রক্রিয়া' হিসেবে অভিহিত করে বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তাজুল ইসলাম বলেন, 'আজকে আমার অনুভূতিটা অম্লমধুর। বাংলাদেশের একটা কঠিন সময়ে আমি এখানে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম।'
পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক সরকার যখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেন, নির্বাচিত সরকার—স্বাভাবিকভাবেই তাদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় তারা তাদের পছন্দনীয় লোকজনকে বসাবেন, এটা হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়ম। আমি এখানে নিয়োজিত হয়েছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে। এখন নতুন সরকার এসেছেন, তারা তাদের পছন্দের লোককে তাদের কাজের সুবিধার্থে, নিজস্ব পরিকল্পনা আছে—তারা নিশ্চয়ই সেই অনুযায়ী এখানে বসিয়েছেন।'
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য সর্বাত্মক শুভকামনা থাকল, সহযোগিতা থাকবে। পরামর্শ দরকার হলে আমি দেব।'
দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের প্রতিকূল পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে তাজুল ইসলাম বলেন, 'আমি যখন দায়িত্ব নেই, আপনারা জানেন যে এই মূল ভবনটি তখন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। একটা টিনশেডে কার্যক্রম চলছিল। তার আগের প্রসিকিউশনে যারা ছিলেন, তারা সবকিছু এলোমেলো রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বইপত্র, নথিপত্র বৃষ্টিতে ভিজছিল—এরকম একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম।'
ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন ও সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শহীদ পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিচার বর্তমানে গতিশীল পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, 'ছাত্র-জনতার ত্যাগের এই বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের যে তৃষ্ণা রয়েছে, তা পূরণ করতে হবে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো যেন বিচারের মাধ্যমে অন্তত সান্ত্বনা পায়।' তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন যারা দায়িত্বে আসছেন তারা নির্যাতিত মানুষগুলোর প্রতি সুবিচার নিশ্চিতে এই বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহতভাবে এগিয়ে নেবেন।
বক্তব্যের শেষে তাজুল ইসলাম গত দেড় বছরে ট্রাইব্যুনালের কাজে সহায়তার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'মিডিয়ার এই সহযোগিতা ছাড়া এই বিচারকে সফল করা অপূর্ণাঙ্গ হতো। আপনারা অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন রাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে। বাংলাদেশটা আবার সবার হোক এবং এমন পরিবেশ হোক যাতে এই ধরনের অপরাধ আর ফিরে না আসে।'
