শপথ নিয়েই জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পাশে হাসনাত আবদুল্লাহ
শপথ গ্রহণের পরপরই কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজ নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই তিনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে শহীদদের খোঁজখবর নেন এবং আহতদের সঙ্গে সময় কাটান।
জানা গেছে, হাসনাত আবদুল্লাহ দিনের শুরুতেই গত ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত শহীদ আব্দুর রাজ্জাক রুবেলের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি রুবেলের মা, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি রুবেলের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন।
এরপর তিনি শহীদ আমিনুল ইসলাম সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে একটি দোকান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তিনি মহেশপুর গ্রামে শহীদ জহিরুল ইসলাম এবং বড়শালঘর গ্রামে শহীদ সাগরের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দুপুরে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।
সেখানে জুলাইয়ের হামলায় বাকশক্তি হারিয়ে ফেলা মাদ্রাসা ছাত্র আবু বকরসহ মো. ইয়াছিন, তুষার মোল্লা, সৌরভ ও মাহমুদুল হাসানের মতো আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে বসে তিনি খাবার খান। এ সময় তিনি তাদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে তদারকির আশ্বাস প্রদান করেন।
আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত এবং আহতদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা এই স্বাধীন ও নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই বিজয় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, এই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে দেবিদ্বারের মাটিতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দখলবাজি বরদাশত করা হবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'জুলাই শহীদ ও আহতদের নাম ভাঙিয়ে কিংবা আমার দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা চাঁদাবাজির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহীদদের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না, তবে তাদের স্বপ্ন পূরণে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আহতদের পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকা তার অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্বের অংশ এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে।
