নতুন দায়িত্ব চ্যালেঞ্জিং, পাই পাই করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর
নতুন দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, 'দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আমরা একটি দায়িত্বশীল ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা পাই পাই করে আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করব।'
আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আজ আমার জন্য এক বিশেষ দিন। আজ থেকে ৪৬ বছর আগে আমি আমার পাবলিক সার্ভিস জীবন শুরু করেছিলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। জীবনের এই প্রান্তে এসে আবার সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা নিঃসন্দেহে এক সম্মান ও গুরু দায়িত্বের বিষয়।'
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'অবশ্যই এই দায়িত্ব চ্যালেঞ্জিং। একই সঙ্গে এটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।'
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তাতে কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে কি- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'গণতন্ত্রে ভিন্ন মত ও ধারণা থাকতেই পারে। কারও প্রাথমিক ধারণা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনও হতে পারে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রীক এবং সম্পূর্ণ দায়িত্বশীল। কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় বিবেচনায় নয়, রাষ্ট্রের স্বার্থেই আমরা কাজ করব।'
নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা মূলত গণনা বা প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উপায় রয়েছে। প্রয়োজনে পুনর্গণনা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে পারে। আমরা আইন ও প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানাই।'
খলিলুর রহমান বলেন, ''অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির অভিমুখ নিয়ে গভীরভাবে কাজ করেছি। আমরা একটি সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নির্ধারণ করেছি—'সবার আগে বাংলাদেশ'। প্রধানমন্ত্রী বারবার তার ভাষণে বলেছেন, বাংলাদেশ ফার্স্ট—এটাই হবে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন।''
'আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রীক। আমরা আমাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে, বিবেচনা করে, দায়িত্বশীল ও সাহসী কূটনীতি পরিচালনা করব', যোগ করেন তিনি।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'সব দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কোথাও যদি সম্পর্কের জট বা স্থবিরতা থাকে, সেটি দূর করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।'
