নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৮ মাস পর খুলল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়
চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে অবস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় দীর্ঘ ১৮ মাস পর পুনরায় খোলা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়টি খুলে সেখানে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত উল আনাম এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সুরুজের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী সোমবার বিকেলে কার্যালয়টিতে যান। তারা সেখানে আগে থেকে লাগানো জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলেন এবং সেটির স্থলে 'চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ'-এর একটি নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নেতা-কর্মীরা 'জয় বাংলা' স্লোগান দিচ্ছেন এবং দরজার ওপর উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ডটি লাগাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা শওকত উল আনাম বলেন, 'আমরা অফিসটি খুলে ভেতরে ঢুকেছি।'
তবে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে তারা আগের কোনো আসবাবপত্র বা সরঞ্জাম খুঁজে পাননি। সেখানে কোনো চেয়ার, টেবিল, মাইক্রোফোন, আইপিএস, ক্যাবিনেট কিংবা কোনো নথিপত্র ছিল না। কিছুক্ষণ পর কার্যালয়টি পুনরায় তালাবদ্ধ করে তারা চলে যান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ অক্টোবর একদল যুবক কার্যালয়টি পুনরায় ভাঙচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
কার্যালয় খোলার আগের দিন অর্থাৎ রোববার নগরীর লালদীঘি এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরালও পরিষ্কার করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ৫ আগস্টের পর ম্যুরালটিতে কালো রং মেখে দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি সেখানে লেখেন, 'বিএনপি সরকার গঠন শুরু করার সাথে সাথেই আওয়ামী লীগের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ অফিসগুলো পুনরায় খুলতে শুরু করেছে।'
তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি কি আওয়ামী লীগকে তাদের নিজস্ব নামে পুনর্বাসিত করবে নাকি তাদের বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করবে। তিনি আরও জানতে চান, বিএনপি কি 'আওয়ামী প্রশ্নে' ছাত্র ও জনতার পাশে দাঁড়াবে, নাকি নিষিদ্ধ দলটির পক্ষ নেবে।
