নতুন সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার আহ্বান ব্যবসায়ীদের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, তাতে দেশের জন্য ভালোর থেকে খারাপই বেশি হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তারা নতুন সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চুক্তিটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য সব দেশ চুক্তি করেছে, বিশেষ করে কম্বোডিয়া বা মালায়েশিয়া যে চুক্তি করেছে, তাতে নমনীয় শব্দ ব্যবহার হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তার পক্ষে কঠোর নীতি আরোপ করেছে। চুক্তির বাস্তবায়নে আইন বদলাতে হবে। ফলে এটি এখনই কার্যকর হয়নি।
ড. মোস্তফা আবিদ খান নতুন সরকারকে এটি সংশোধনে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
'এ চুক্তি এমন এক চুক্তি, যার থেকে বের হওয়া কঠিন', বলেন তিনি।
গবেষণা সংস্থা র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, এর ফলে দেশের রপ্তানি বাড়বে এমন কোনো কারণ দেখি না। চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে কৃষি, জ্বালানি, বিমান, অস্ত্রসহ যেসব পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া, তার প্রভাব দেশের জন্য হবে নেতিবাচক।
তিনি বলেন, 'এ চুক্তির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি লঙ্ঘিত হওয়ায় একই সুবিধা অন্য দেশ চাইতে পারে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কেন বাংলাদেশকে ছাড় দেবে? নতুন সরকারের উচিত চুক্তিটি পর্যালোচনা করা এবং এটা সংশোধন করা যায় কি না, সেই উদ্যোগ নেওয়া।'
এ চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থকে বিপন্ন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম বলেন, চুক্তির ফলে দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়বে বলে ধারণা দেওয়া হচ্ছে, তা ঠিক নয়। যদি রপ্তানি বাড়েও তা খুব বেশি হবে না। অথচ এ সুবিধা নিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল সংখ্যক পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হয়েছে। যে পরিমাণ কৃষি, জ্বালানি, অস্ত্র কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার ফলে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো চীন, রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে গেলে বা তাদের বিনিয়োগ আনতে সমস্যায় পড়তে হবে। ইপিজেডে শ্রমিক ইউনিয়ন করতে বলা হয়েছে। এটা বলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার তার এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছে।
তিনি বলেন, এ চুক্তি কেবল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এতে ভূ-রাজনৈতিক উপাদান আছে, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে চুক্তিটি হয়েছে। এ চুক্তি করতে গিয়ে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি, সরকার কী চুক্তি করতে যাচ্ছে, তা জনগণকে জানায়নি, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেনি, মতামত নেয়নি।
