সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি, যা ব্যাখ্যা দিলেন সালাহউদ্দিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'গণভোটের রায় অনুসারে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে যেতে হবে আগে। এবং সংসদে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংস্কার করতে হবে। সেটা সংশোধন করার পরে যিনি শপথবাক্য পাঠ করাবেন, তার পদমর্যাদা এবং সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে শপথের ফর্ম সংযুক্ত হবে।'
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে এবং বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, 'শপথ পড়ানোর দায়িত্ব কার থাকবে, তা সংসদ নির্ধারণ করবে। সংবিধান সংশোধন হবে। তারপর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারে।'
সালাহউদ্দিন বলেন, 'এখন বিদ্যমান সংবিধানে ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক)-এ বলা আছে, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার যদি শপথ পাঠ করাতে না পারেন, অপারগতা প্রকাশ করেন বা তাদের পাওয়া না যায়, তাদের মনোনীত প্রতিনিধি যদি তা না করেন তিন দিনের মধ্যে, তাহলে পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।'
তিনি বলেন, 'সেই বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে আমাদের শপথ পাঠ করিয়েছেন। এখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কোনো বিধান সংবিধানে নেই এবং তারও (সিইসি) শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নেই।'
সালাহউদ্দিন বলেন, 'সে বিবেচনায় তিনি (সিইসি) আমাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করানোর জন্য এপ্রোচও করেননি, আমরাও শপথ গ্রহণ করিনি। যেহেতু সেখান থেকে এপ্রোচ করা হয়নি। সাংবিধানিকভাবেই সমস্ত কিছু পরিচালিত হওয়া দরকার। এবং এ পর্যন্ত আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এসেছি। আগামীতেও আমরা সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই।'
তিন বলেন, 'জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি বিষয়—জুলাই জাতীয় সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে—সেটা আমরা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।'
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, 'আজকে আমাদের পার্লামেন্টারি পার্টি মিটিংয়ে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এবং তার প্রেক্ষিতে মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সেই সঙ্গে গণভোটের রায় না মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় আজ বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
তারেক রহমান আজ বিকেল চারটায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন।
