চট্টগ্রামে ১১৫ প্রার্থী মধ্যে ৭৮ জনই জামানত হারিয়েছেন
জাতীয় নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) ভোট পেতে হয়। এই পরিমাণ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জনই এবারের নির্বাচনে তাদের জামানত হারিয়েছেন। অর্থাৎ, চট্টগ্রামে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন প্রণীত ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত ও এনসিপি-র একজন করে প্রার্থী ছাড়া বাকিরা মূলত ইসলামী আন্দোলন, সুপ্রিম পার্টি, জেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব, মুসলিম লীগ, গণসংহতি আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী। এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের আইন মতে, প্রদত্ত ভোটের (কাস্টিং ভোট) ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকার জামানত ফেরত পাবেন না তারা।'
আসনভিত্তিক জামানত হারানো প্রার্থীদের চিত্র
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই): এই আসনে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ১২০টি ভোট পড়েছে। বিধি অনুযায়ী জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের অন্তত ২৮ হাজার ভোট প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে এই আসনে জামানত হারিয়েছেন ৫ জন প্রার্থী— জেএসডির এ কে এম আবু ইউছুপ, ইসলামী আন্দোলনের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিখার বুলবুল চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): এ আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া জামানত হারিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির, জিন্নাত আকতার, জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান এবং সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): এই আসনে চার প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা তাদের জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড, আকবরশাহ ও পাহাড়তলী): এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে আপিল বিভাগে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তার ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে জামানত হারিয়েছেন সাত প্রার্থী— গণঅধিকার পরিষদের এ টি এম পারভেজ, জনসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দিদারুল মাওলা, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদ্দৌলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও চসিক আংশিক): এ আসনের ছয় প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন চারজন— ইসলামী আন্দোলনের মতিউল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ এবং লেবার পার্টির মো. আলা উদ্দিন।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): এই আসনে চারজন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী নাছির উদ্দিন তালুকদার জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): আট প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ বায়েজিদ আংশিক): এই আসনের ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিন প্রার্থী— এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম তাদের জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া): দশ প্রার্থীর মধ্যে আট প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আবদুস শুক্কুর, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈদ উদ্দিন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফি উদ্দিন কবির, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী এবং গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারূপ।
চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-পাহাড়তলী-হালিশহর): নয় প্রার্থীর মধ্যে সাতজনই জামানত খুইয়েছেন। তারা হলেন— সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আসমা আকতার, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী এবং লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-ডবলমুরিং): এই আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— জাতীয় পার্টির আবু তাহের, সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ আবু তাহের, সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. নিজামুল হক আল কাদেরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আজিজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ছাড়াও এ আসনে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের এসএম বেলাল নূর, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন এবং এলডিপির এম এয়াকুব আলী।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): সাত প্রার্থীর মধ্যে চার প্রার্থী— গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোহাম্মদ এমরান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক): আট প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী ফ্রন্টের মৌলভি মো. সোলাইমান, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী, মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচএম ইলিয়াছ।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক): এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে কেবল ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী তার জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): সাত প্রার্থীর মধ্যে চার প্রার্থী— ইসলামিক ফ্রন্টের আব্দুল মালেক, মুসলিম লীগের এহছানুল হক, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ রুহুল্লাহ তাদের জামানত হারিয়েছেন।
