Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Saturday
March 14, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SATURDAY, MARCH 14, 2026
স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল, কীভাবে এতদূর এল জামায়াত

বাংলাদেশ

রাকিব হাসনাত - বিবিসি নিউজ বাংলা
15 February, 2026, 12:20 pm
Last modified: 15 February, 2026, 12:21 pm

Related News

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ  
  • জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার: জামায়াত আমির
  • ডেপুটি স্পিকার নিয়ে বিএনপির প্রস্তাব ‘আপাতত নাকচ’ জামায়াতের
  • শফিকুর রহমান: এক স্বঘোষিত বিরোধী দলীয় নেতার অদ্ভুত কাহিনি
  • পাঁচ মাসে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় নিহত ১২, আহত ২৬৫৩: এইচআরএসএস

স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল, কীভাবে এতদূর এল জামায়াত

রাকিব হাসনাত - বিবিসি নিউজ বাংলা
15 February, 2026, 12:20 pm
Last modified: 15 February, 2026, 12:21 pm
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান | Copyright: AFP via Getty Images

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে যত আসন পেয়েছে, তা আগে আর কখনোই পায়নি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির নেতাদের পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। সেই ইতিহাসকে সাথে নিয়েই এবার বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় কোনো আসন পেতে সক্ষম হলো। এবার তারা রাজধানী ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে, যার একটিতে জিতেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।

ঢাকা জেলার ২০টি আসনে তার জয় সাতটিতে।

অবশ্য খুলনায় নিজের আসনে হেরে গেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

কিন্তু সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এককভাবে ৬৮টি সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছে এবং এগুলোসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৭৭টি আসন নিয়ে এবার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের ফলই বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অর্জন।

তাদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিকূল পরিবেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার দক্ষতার পাশাপাশি অনেক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে দলটি আগের তুলনায় এবার অনেক বেশি আসন পেয়েছে।

একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের না থাকাটাও কোনো কোনো জায়গায় জামায়াতকে সুবিধা দিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

তবে জামায়াত নেতাদের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন নেতা বলেছেন, দলীয় বৈঠকে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই

এবার নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে থেকেই জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ক্ষমতায় যাওয়ার আলোচনা সামনে নিয়ে আসেন এবং সেটিই পুরো নির্বাচনী প্রচারে দল ও জোটের মুখ থেকে উঠে এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে সবসময়ই সমালোচনার শিকার হওয়া জামায়াতে ইসলামী এর আগে বিএনপির সঙ্গে মিলে ক্ষমতার অংশীদার হলেও এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা দলটির নেতাদের মুখে এভাবে আগে কখনোই শোনা যায়নি।

কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায় এবং পুরনো মিত্র বিএনপির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করে দলটি।

শেষ পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইনে দলটির নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা এমন প্রচার শুরু করে যে, দলটি ক্ষমতায়ও আসতে পারে। এক পর্যায়ে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিসহ ১০টি দল নিয়ে জোট গঠন করে দলটি।

পরে নির্বাচনী প্রচারের সময় জনসভায় কয়েকজনকে মন্ত্রী করা হবে বলেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পর তিনি সরকার গঠন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন।

দল ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন- গত ২০শে জুন তাও তুলে ধরেছিলেন শফিকুর রহমান। বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে 'জামায়াত ক্ষমতায় যাচ্ছে' এমন একটি প্রচার গড়ে তোলা হয় নির্বাচনের আগে থেকেই।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি বাস্তবে পরিণত হয়নি। তবে এবারের ভোটে দলটি ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করেছে।

এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নিয়ে ১৮টি আসন পেয়েছিল জামায়াত।

জামায়াতের রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, জামায়াতের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাই এতো আসনে জয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।

"এর কৃতিত্ব হলো জামায়াত আমিরের। তিনি জামায়াতকে নবজন্ম দিয়েছেন এবং সব ধর্ম ও পেশার মানুষদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছেন। দীর্ঘদিন বৈরি পরিবেশে থেকেও দলটি নির্বাচনে ভালো করার মূল ভিত্তি হলো তাদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

মি. বাবর বলেন, এবারই ঢাকায় প্রথম আসন জেতা এবং ঢাকার এলিট এলাকা বলে পরিচিত জায়গাগুলোতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে এই নির্বাচনে।

প্রসঙ্গত, গুলশান-বনানীকে অনেকে এলিট বা অভিজাত এলাকা বলে থাকেন। এই এলাকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে পাঁচ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করতে পেরেছেন।

জামায়াত ৩০টি আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে। দলটির দাবি, ভোট পুনর্গণনা হলে ঢাকা-১৭সহ অনেক আসনের ফল পাল্টে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, জামায়াতের সাংগঠনিক কাজ ও এর মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেও তরুণদের মধ্যে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারার বিষয় নির্বাচনে আসন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

"আওয়ামী লীগ নেই। ফলে তাদের সমর্থকরা হয়তো কোথাও কোথাও বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। তবে জামায়াত সারাদেশেই সংগঠনকে সক্রিয় করতে পেরেছে। তরুণদের মধ্যে তাদের অবস্থানও নির্বাচনে ভালো ফল করতে সহায়তা করেছে," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

নিষিদ্ধ থেকে সংসদে

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অস্তিত্ব দৃশ্যত স্বাধীন বাংলাদেশে বিলীন হয়ে যায়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে তখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

এ অবস্থায় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অনেকে তখনকার ক্রিয়াশীল কিছু রাজনৈতিক দলে ভিড়ে যান। দলটির বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের লতিফুর রহমানসহ অনেকেই তখন জাসদ ছাত্রলীগ কিংবা জাসদের রাজনীতিতে মিশে যান।

দলটির ওয়েবসাইটে বলা আছে যে, এখনকার আমির শফিকুর রহমান নিজেও জাসদ ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন।

তবে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াতের জন্য পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

১৯৭৬ সালের তেসরা মে তখনকার রাষ্ট্রপতি এ. এস. এম সায়েম একটি অধ্যাদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

কিন্তু তারপরেও মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতার ইস্যুতে জনমনে তীব্র ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দলটির গোপনে সক্রিয় থাকা নেতারা তখনো জামায়াত নামে দলের কার্যক্রম না শুরু করে ভিন্ন নামে দল গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নেন।

এর ধারাবাহিকতা ১৯৭৬ সালেই আরও কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামী তৎপরতা শুরু করে।

দৃশ্যত এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ভিন্ন পরিচয়ে হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে প্রথমবারের মতো আসতে সক্ষম হন।

জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আইডিএল- এর ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর ছয় জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গোপন থেকে স্বনামে প্রকাশ্যে

আইডিএল এর ব্যানারে জামায়াত নেতাদের সংসদে যাওয়ার পর ১৯৭৯ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামীর নামেই একটি কনভেনশন আহ্বান করা হয় দলটির তখনকার একজন নেতা আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে।

সেই কনভেনশনেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত গোলাম আযমের একটি ভাষণ পড়ে শোনানো হয়।

এই কনভেনশনে একটি নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয় এবং তার ভিত্তিতে ১৯৭৯ সালের ২৭শে মে চার দফা কর্মসূচী নিয়ে জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের প্রকাশ্য কর্মতৎপরতা শুরু করে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন গোলাম আযম। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে ২২শে নভেম্বর ঢাকা ছেড়ে পাকিস্তান চলে যান তিনি। পরে ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে অসুস্থ মাকে দেখার কথা বলে ঢাকায় এসে তিনি আর ফিরে যাননি।

তবে গোলাম আযম স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮১ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসেন। যদিও এর আগে ১৯৭৯ সালে জামায়াত সক্রিয় হওয়ার পর থেকে তার নির্দেশনাতেই দলটি পরিচালিত হয়েছে বলে দলটির নেতারা পরবর্তীতে প্রকাশ করেছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত এক নেতা একেএম নাজির আহমেদের বই 'রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী' তে বলা হয়েছে, "১৯৭৮ সনে দেশে ফেরার পর থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম বারবার আমিরে জামায়াত নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তার নাগরিকত্ব ছিল না বিধায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ভূমিকা পালন করতেন ভারপ্রাপ্ত আমির জনাব আব্বাস আলী খান"।

এর মধ্যে ১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় আসেন আরেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। একপর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে তাতে সামিল হয় জামায়াতে ইসলামীও।

আন্দোলন সামাল দেওয়ার জন্য এরশাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যখন আলোচনায় বসেন, তখন জামায়াতে ইসলামীকেও ডাকা হয়েছিল।

এরশাদ সরকারের অধীনে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। জামায়াতের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দলটি সেই নির্বাচনে দলটির ১০ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেয়নি।

সরকার গঠনে ভূমিকা

জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন ছিল।

তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি এবং মূলত এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে দলটি। তখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয় তাতে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ছিল বলে পরে জানা যায়।

কিন্তু এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন তৈরি হলে ৯২ সালের মার্চ মাসে গোলাম আযমকে গ্রেফতার করে 'বিদেশি নাগরিক হয়ে দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল'।

তখন নাগরিকত্বের প্রশ্নে হাইকোর্টে জামায়াত রিট মামলা করে এর পক্ষে রায় পেয়েছিল। কিন্তু তখন সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছিল। এরপর সুপ্রিমকোর্টে আপিল বিভাগ থেকে নাগরিকত্ব ফিরে পেয়ে ১৬ মাস জেল খাটার পর মুক্তি পেয়েছিলেন গোলাম আযম।

কিন্তু এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দল আন্দোলন গড়ে তুললে তাতেও আলাদা থেকেই সামিল হয় জামায়াত।

তখন বিএনপি সরকারের সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত দলগুলো।

এক পর্যায়ে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তখনকার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে হওয়া নির্বাচনে জামায়াত মাত্র তিনটি আসনে জয় পেতে সক্ষম হয়।

পরে আবার বিএনপির সাথে মিলে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনেও সামিল ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং এক পর্যায়ে বিএনপির জোটে জামায়াত সরাসরি যোগ দেয়। তাদের চারদলীয় জোট ২০০১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল জয় পেলে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার সুযোগ পায় জামায়াত।

দলটির তখনকার দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ খালেদা জিয়ার নেতৃ্ত্বাধীন সরকারে মন্ত্রীত্ব পান। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল তাদের মধ্যেই ওই দুজনও ছিলেন।

সংকট ও বিপাকে পড়ে নাম বদল

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন- সেই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকট সহিংসতায় রূপ নিলে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

ওই সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে হওয়া নির্বাচনে জামায়াত মাত্র দুটি আসনে জয় পায়। ওই বছর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য 'জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ' নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী' করা হয়।

ওই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জামায়াতে ইসলামী।

অনেকেই মনে করেন, বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য কিংবা নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এলেও ১৯৭৯ সালে সক্রিয় হওয়ার ৪০ বছর পর এসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে নিবন্ধন হারিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় দলের নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। এর আগে থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় দলটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা আটক হলে বেশ চাপের মুখে পড়ে দলটি।

ওই বছরেই সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট। পরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে দলটি।

এরপর তিনটি নির্বাচনে জামায়াত আর অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালের বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলেও জামায়াত নেতারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা খাটা অবস্থায় ২০১৪ সালের অক্টোবরে মারা যান গোলাম আজম। একই ধরনের মামলায় ২০১৫ সালে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের এবং ২০১৬ সালে আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হলে চরম বিপাকে পড়ে দলটি।

২০২৩ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দলটির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ই বহাল থাকে।

পরে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালতের নির্দেশে আবার দলটি নিবন্ধন ফিরে পায়।

চারবার নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ২০২৪ সালের ৩১শে জুলাই জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে দলটি দ্বিতীয়বারের মতো নিষিদ্ধ হয়। এর আগে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেছিল সরকার।

এর আগে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর যাত্রা শুরু হয়েছিলো মূলত ব্রিটিশ আমলে। সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী ১৯৪১ সালের ২৬শে অগাস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে পরের বছরেই এর সদর দপ্তর লাহোর থেকে নেওয়া হয় ভারতের পাঠানকোটে।

ধর্মের কথা বলা হলেও অনেকেই মনে করেন মূলত ভারতের কমিউনিজম বিরোধী শক্তি হিসেবেই এ সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল এবং তখনকার ব্রিটিশ শাসকদের আনুকূল্যও তারা পেয়েছিলো।

১৯৪৫ সালে এর প্রথম কনভেনশন হয় অবিভক্ত ভারতে এবং এর দু'বছর পর দেশভাগের আগ পর্যন্ত এই সংগঠনটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলো।

ইসলামি সংবিধানের দাবিতে ১৯৪৮ সালে প্রচারণা শুরু করলে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীকে গ্রেফতার করে। তবে ওই বছর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও জামায়াতের কার্যক্রম শুরু হয়। দু'বছর পর মি. মওদুদী জেল থেকে ছাড়া পান।

রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ১৯৫৮ সালে অন্য সব দলের সাথে জামায়াতের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেন তখনকার সেনা শাসক আইয়ুব খান।

১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে জামায়াতকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়। মওদুদী ও গোলাম আজমসহ অনেককে আটক করা হয়। সে বছরের শেষ দিকে দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ১৫১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে চারটি আসন পায় দলটি।

এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় দলটি। তখন পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগিতায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।

এই দলটির নেতৃত্বেই রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনী হয়েছিলো যারা ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ যুদ্ধকালীন গণহত্যায় সহযোগিতার জন্য তীব্রভাবে সমালোচিত।

 

Related Topics

BBC / টপ নিউজ

জামায়াত / জামায়াতে ইসলামী / নির্বাচন / ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: টিবিএস ক্রিয়েটিভ
    যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজ ভাড়া করায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেল পরিবহনে জটিলতা
  • ছবি: সংগৃহীত
    রাজধানীর এভারকেয়ারে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার
  • ছবি: রয়টার্স
    ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের অন্দরেই প্রবল মতভেদ
  • ছবি: রয়টার্স
    যে ৭ কারণে ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প এখনো জয়ী হতে পারেননি
  • বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকার খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: ফোকাস বাংলা
    বউ বরণের আনন্দ এখন লাশ দাফনের শোক: বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪
  • ছবি: টিবিএস
    আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ, একটি সচল হতে লাগবে ৩ দিন  

Related News

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ  
  • জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার: জামায়াত আমির
  • ডেপুটি স্পিকার নিয়ে বিএনপির প্রস্তাব ‘আপাতত নাকচ’ জামায়াতের
  • শফিকুর রহমান: এক স্বঘোষিত বিরোধী দলীয় নেতার অদ্ভুত কাহিনি
  • পাঁচ মাসে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় নিহত ১২, আহত ২৬৫৩: এইচআরএসএস

Most Read

1
ছবি: টিবিএস ক্রিয়েটিভ
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজ ভাড়া করায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেল পরিবহনে জটিলতা

2
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

রাজধানীর এভারকেয়ারে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

3
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের অন্দরেই প্রবল মতভেদ

4
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

যে ৭ কারণে ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প এখনো জয়ী হতে পারেননি

5
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকার খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: ফোকাস বাংলা
বাংলাদেশ

বউ বরণের আনন্দ এখন লাশ দাফনের শোক: বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪

6
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ, একটি সচল হতে লাগবে ৩ দিন  

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net