ঢাকা-৮ সহ ৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনা ও গেজেট স্থগিত চায় জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, কেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করে দেওয়া এবং ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে ৩০টি আসনে ভোট পুনর্গণনা এবং ওই আসনগুলোর বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ ও শপথ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে এই দাবি তুলে ধরেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের বলেন, 'দেশবাসী একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের আশা করেছিল। নির্বাচন সম্পন্ন হলেও অনেক ক্ষেত্রে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি এবং পেশিশক্তির মহড়া দেখা গেছে। বিশেষ করে ৩০টি আসনে আমাদের প্রার্থীদের চরম অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হারানো হয়েছে। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এসব অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।'
নির্বাচনি ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, 'ঢাকার কয়েকটি আসনে ভোর ৫টায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত রহস্যজনক। অথচ পাশের কেন্দ্রগুলোতে অনেক আগেই ফলাফল দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার এই সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হয়ে আসতে চাই।'
যেসব আসনে পুনর্গণনার দাবি
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত যে ৩০টি আসনে ভোট পুনর্গণনা ও গেজেট স্থগিতের দাবি জানিয়েছে, সেগুলো হলো— পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩ ও ৫, বরগুনা-১ ও ২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪। এছাড়াও ঢাকা-৬ আসনের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে দলটি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, এসব আসনে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে এসব আসনের ফলাফল ইতিমধ্যে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
ঢাকা-৬ আসনে জালিয়াতির অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান উপস্থিত থেকে তার আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফলের অনুলিপি প্রদর্শন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, 'আমার আসনের অনেক কেন্দ্রের রেজাল্ট শিটে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর নেই। কিছু শিট পেন্সিল দিয়ে লেখা, আবার কিছু শিট কার্বন কপিতে অস্পষ্ট। গেণ্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কবি নজরুল কলেজ কেন্দ্রের ফলাফলে নজিরবিহীন জালিয়াতি করা হয়েছে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'ফলাফল ঘোষণার আগেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিজয়ী ঘোষণা করে স্ক্রল প্রচার করেছে, যা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।'
সহিংসতার নিন্দা
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে জামায়াত নেতারা জানান, ফেনী, বাগেরহাট, হালুয়াঘাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত ও বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে জয়ের পর বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের হত্যা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
