১১-দলীয় জোটের সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে, বন্ধ না হলে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির
দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এসব ঘটনাকে 'ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপ' ও 'জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক' বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, যারা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন, তাদের অবশ্যই দায় নিতে হবে। এই ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। যদি তারা বন্ধ না করে, তাহলে আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই দেশে পুরনো ধারার কালো রাজনীতি বন্ধ হয়ে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু হোক। আমরা নির্বাচনের আগে যা বলেছি, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত রাখব। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা লড়াই করব।
তিনি বলেন, 'আমাদের ভদ্রতাকে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে কেউ দুর্বলতা ভাবলে তারাই বিপদে পড়বেন। আমরা বলব এখন এই মুহূর্তে আপনাদের অপকর্ম বন্ধ করুন। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। কিন্তু প্রতিকার চাওয়ার অধিকার আমাদের আছে।'
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো জায়গায় ঘোষণা দিয়ে ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। '২৪ এর আকাঙ্ক্ষাকে কেউ অপমান করলে যুবসমাজ তাদের ক্ষমা করবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের বিষয়ে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে 'হ্যাঁ' বিজয়ী হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে সংসদে। বাস্তবায়নে আমরা সহেযোগিতা করব। কেউ যদি এড়িয়ে চলে, তাহলে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। কেউ যদি আমাদের ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করা থেকে বঞ্চিত করতে চান, তাহলে তা ভালো হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে কারচুপি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু আসনকে টার্গেট করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। ঢাকা-৮, ১৩ ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ারের আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসব হয়েছে।
'যারা নির্বাচনের পরদিনই সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করছে তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। এজন্য প্রয়োজনে আমরা রাজপথে লড়াই করব', বলেন নাহিদ।
