ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি-কওমি শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, উত্তেজনা; কারও অনুমতি নেই বলছেন ডিসি
জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এনসিপির তীব্র উত্তেজনা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আজ (২৯ আগস্ট) এনসিপির পূর্বনির্ধারিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণার পর, প্রতিবাদী 'কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ' একই ভেন্যুতে আজ একটি পাল্টা ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ডাক দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে 'অসত্য' বক্তব্য দিয়েছেন এবং এর জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, 'যেহেতু তিনি ক্ষমা চাননি, তাই আমরা আমাদের আজকের এই পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।'
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো পক্ষের কর্মসূচির জন্যই তাদের প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু সাঈদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল যে তারা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া বা ইনডোর অনুষ্ঠান করবে, তবে সেটি যে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ হবে—তা তারা স্পষ্ট করেনি। তিনি বলেন, 'এই শর্তে আমরা অনুমতি দিতে পারি না। শিল্পকলা একাডেমি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহারের জায়গা নয়।'
কওমি শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, 'তারা আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি, তাই মিলনায়তনটি তাদের কর্মসূচির জন্যও ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।'
এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জিহাদ দাবি করেছেন, তারা জেলা প্রশাসনকে সুনির্দিষ্টভাবেই জানিয়েছিল যে তারা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে চায়। তিনি বলেন, 'একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি কি ঘরের ভেতরে বা ইনডোরে করা যায় না? আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি যথানিয়মে চলবে।'
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাসনাত আবদুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ বা বাতিল করার পর সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যেখানে সব ধরনের সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
