নির্বাচিত সরকারের কাছে স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা নতুন সরকারের কাছে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি আনতে স্থিতিশীল ও প্রকৃত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা খুবই স্পষ্ট। তারা এমন একটি কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ চান, যেখানে কোনো বাধা ছাড়াই উদ্যোক্তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাথে আলাপকালে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারি নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সহজ এবং সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জটিলতা কমাতে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি।
ব্যবসায়ীরা দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এমন পদক্ষেপ ব্যবসায়ীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ মানেই নতুন কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি। কিন্তু গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নতুন কোনো বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি নতুন সরকারকে ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিত আলোচনা করার এবং বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলো দ্রুত অনুমোদনের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা (ফাস্ট-ট্র্যাক প্ল্যাটফর্ম) তৈরি করার অনুরোধ জানান।
তিনি যোগ করেন, সরকারি নীতিমালা হতে হবে স্পষ্ট, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। নীতিমালার ধারাবাহিকতা থাকলে ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আর আত্মবিশ্বাস ফিরলে ব্যবসায়ীরা উৎপাদন বাড়াবেন ও বিনিয়োগ করবেন, যা সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়াবে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, গত দেড় বছরে দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে অনেকে নতুন বিনিয়োগ করতে ভয় পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো স্থিতিশীলতা। সরকারকে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন জরুরি।
বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সারওয়ার হোসেন সাগর চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি মূলত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল, যার বেশিরভাগই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দক্ষতা বাড়লে ব্যবসার খরচ কমবে এবং বাণিজ্য দ্রুত হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে ব্যবসার জন্য সত্যিকার অর্থে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
তাদের মতে, সহজ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক নীতিমালার মাধ্যমেই অর্থনীতি একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
