ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: মেঘনা ও তারেকসহ জামানত হারালেন আরও যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে হেরে জামানত হারিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম এবং আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমানসহ আলোচিত বেশ কয়েকজন প্রার্থী। নির্বাচনের আইন অনুযায়ী ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
বিদ্যমান নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ (৮ ভাগের ১ ভাগ) ভোট পেতে হয়। এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছিল। নির্ধারিত সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় এই টাকা সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হবে।
বগুড়া-২: মান্নার ভরাডুবি
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে 'কেটলী' প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি (ভোটের হার ৭২.৬৩ শতাংশ)। নিয়ম অনুযায়ী, জামানত টেকাতে মান্নার প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। অথচ তিনি পেয়েছেন মোট বৈধ ভোটের মাত্র ১.৪ শতাংশ।
ঢাকা-১২: বাতিল ভোটের চেয়েও কম তারেকের ভোট
ঢাকা-১২ আসনে 'প্রজাপতি' প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। তিনি পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৪৪ ভোট। এই আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৮টি (ভোটের হার ৩৭.৪২ শতাংশ)।
এদিকে, এই আসনে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৪টি; অর্থাৎ আমজনতার প্রার্থী তারেক বাতিল হওয়া ভোটের চেয়েও কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ঢাকা-১২: তাসলিমা আখতার
একই আসনে (ঢাকা-১২) 'মাথাল' প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী তাসলিমা আখতার। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৫১১ ভোট।
ঢাকা-৮ ও নেত্রকোনা-৪: মেঘনা ও জলির জামানত বাজেয়াপ্ত
ঢাকা-৮ আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে 'ট্রাক' প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন মেঘনা আলম। তিনি সর্বমোট ৬০৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
অন্যদিকে, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জলি তালুকদার 'কাস্তে' প্রতীকে ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৮: জামানত হারিয়েছেন তিন প্রার্থী
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে তিন প্রার্থী একসঙ্গে জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আলম এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি। এর বিপরীতে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৬ ভোট, যা মোট ভোটারের বিপরীতে মাত্র ০.৫২ শতাংশ। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আলম ১ হাজার ১৮৮ ভোট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক পেয়েছেন মাত্র ৮৭০ ভোট।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলোচিত এসব প্রার্থীর বড় একটি অংশই নূন্যতম জনসমর্থন প্রমানে ব্যর্থ হয়েছেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট পেপারে। জামানত হারানোর ফলে আইন অনুযায়ী তাদের জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা আর ফেরতযোগ্য হবে না।
