রংপুরে জামায়াতের কাছে 'লন্ডভন্ড' জাতীয় পার্টি; জিতেনি একটি আসনও
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) দীর্ঘদিনের দুর্গ রংপুরে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জামায়াতে ইসলামী বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে। অপর আসনটি পেয়েছে তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফলে রংপুরে এবার জাপার ঝুড়ি শূন্য।
শুক্রবার ভোরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ের দেখা পায়নি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের আংশিক নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় জাপার প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন আগেই বাতিল হয়েছিল।
তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। জাপার প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট।
সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে মাত্র ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
কাুনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। জাপার প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। জাপার এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। জাপার নুর আলম মিয়া মাত্র ১ হাজার ২৮৭টি ভোট পেয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অতীত পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের ৯২ শতাংশ আসনেই জয়লাভ করেছে তারা।
তবে এবারের নির্বাচনে তাদের এই ভরাডুবি দলটির জন্য বড় ধাক্কা।
