ভোটের দিনে ৭ জেলায় ৭ জনের মৃত্যু
আজ ভোটের দিনে দেশের ৭টি জেলায় পৃথক ঘটনায় ৭জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে খুলনায় এক বিএনপি নেতা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক পোলিং অফিসার (ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা) রয়েছেন। অসুস্থতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধের জেরে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
খুলনার আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের বাইরে সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে মাহফুজ্জামান কোচি নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। সেখানে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোলের খবর পাওয়া গেছে।
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনুর অভিযোগ, ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তিনি কোচিকে ধাক্কা দিলে কোচি একটি গাছের সঙ্গে আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'কোচিকে কেউ মারধর করেনি, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।' উল্টো তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মীরা নারী কর্মীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই সব পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি।
প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম এবং উপ-পরিদর্শক খান ফয়সাল রাফি জানান, তারা কোনো ধস্তাধস্তি দেখেননি এবং পুলিশ দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে। খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পার্থ রায় নিশ্চিত করেছেন যে হাসপাতালে আনার আগেই কোচি মারা যান এবং তার শরীরে আঘাতের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন ছিল না।
খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতের চিফ এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কোচি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মারা যান পোলিং অফিসার মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮)। তিনি নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিজাম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোকে মারা গেছেন।
চট্টগ্রামে কাজীর দেউড়ি বয়েজ হাই স্কুল কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ৬৩ বছর বয়সী ভোটার মনু মিয়া। পরে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের ধারণা, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ভোট দিতে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬৫ বছর বয়সী অনাথ ঘোষ। মাছিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পথে এই ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
কিশোরগঞ্জের আঘানগর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়ায় রাজ্জাক মিয়া নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মারা যান ৭০ বছর বয়সী ভোটার বাবু মিয়া।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ভোট দিয়ে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬০ বছর বয়সী বাছের চৌধুরী। ওসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে জিল্লুর রহমান নামের এক আওয়ামী লীগ সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ওই সময় কুমিল্লা-৪ আসনেও ভোটকেন্দ্রের কাছে নোয়াব আলী নামের এক সমর্থকের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন, যা ছিল বাংলাদেশের অন্যতম সহিংস নির্বাচন।
