তথ্য অধিকার আইনের সংশোধন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রহসন: তথ্য অধিকার ফোরামের বিবৃতি
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সংশোধনকল্পে প্রণীত ৩০ নম্বর অধ্যাদেশকে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের 'প্রহসন' বলে মনে করছে তথ্য অধিকার ফোরাম।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফোরামের ধারাবাহিক তাগিদ সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং কমিশনারদের নিয়োগ করা হয়নি। ফলে জনগণের অর্থে পরিচালিত তথ্য কমিশনকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাধ্যমে অন্তবর্তী সরকারের আমলে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে তা নিন্দনীয়। অন্তবর্তী সরকারের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের এটিও একটি উদাহরণ।
তথ্য অধিকার ফোরাম তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারার ওপর ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে গত বছরের ৬ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করে এবং একই দিনে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ পর্যালোচনা ও সংশোধনের বিষয়গুলোতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় মতামত প্রদান করা হয়।
সবশেষে উপদেষ্টা পরিষদে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনকল্পে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়টি অবগত হওয়ায় ফোরামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনীকল্পে জরুরি সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গত ২৫ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ফোরামের পক্ষ থেকে সরাসরি উপদেষ্টাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য অধিকার ফোরাম মনে করে তথ্য অধিকার আইনের অন্তস্থিত চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে ন্যূনতম পক্ষে নিম্নলিখিত সংশোধনীসমূহ অর্ন্তভূক্ত করা প্রয়োজন, যার প্রতিফলন এই অধ্যাদেশে পরিলক্ষিত হয়নি, যেমন:
তথ্যের সংজ্ঞায় নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা যা মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নথি পরিচালনকারী প্রত্যেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী কে কী ভূমিকা পালন করেছেন তা স্পষ্ট বোঝা যায়। কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি করে সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তিবদ্ধ কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বা স্থানীয় সরকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা; প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তাদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি যথাক্রমে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ নির্ধারিত করা এবং জরিমানায় আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
বিবৃতিতে জানানো হয়, তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে এই বিবৃতিতে সহমত পোষণ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করি'র কোঅর্ডিনেটর খুশী কবির, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ইন্সিটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস্) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম বজলুর রহমান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আইসোশ্যাল চেয়ারপারসন ড. অনন্য রায়হান, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের (রিইব) ডেপুটি ডাইরেক্টর সদস্য রুহী নাজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ ও টোবাকো ট্যাক্স প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম হিল্লোল।
