প্রতি ভোটকেন্দ্রে থাকবে ১৩ জন আনসার, শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে ব্যবস্থা: আনসার মহাপরিচালক
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে প্রশিক্ষিত আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দায়িত্ব পালনের সময় নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বা শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
আনসার মহাপরিচালক জানান, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২৭ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ঢাকায়, যেখানে ঢাকা মহানগরের চারটি জোনের ৩৬ থানায় ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রে ২৭ হাজার ৭০৩ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
মহাপরিচালক বলেন, "এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং সরাসরি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল মনিটরিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিভ্রান্তি রুখতে বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও সক্ষম।
এছাড়াও তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নির্বাচনি নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জাম বা দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা বহির্ভূত কোনো ছবি বা ভিডিও প্রচার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, "আপনারা কেবল একটি বাহিনীর সদস্য নন, আপনারা জাতীয় পতাকার মর্যাদার রক্ষক এবং সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি। আপনারা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নন; দেশের মাটি ও মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই আপনাদের একমাত্র পরিচয়।"
মহাপরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আনসার ও ভিডিপির এই আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্ব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটসহ ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক, টেকসই ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
সমাবেশে মহাপরিচালক নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে 'নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপস', সমন্বিত সিকিউরিটি রেসপন্স সিস্টেম এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সদস্য বাছাই, সার্টিফিকেশন ও ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো আধুনিক ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থার সফল প্রয়োগের কথা তুলে ধরেন।
