দেশিয় কারখানায় তৈরি হলো বিআরটিসির এসি বাস
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় নির্মিত দুটি আধুনিক এসি বাসের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাস দুটি উদ্বোধন করা হয়।
আজ শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) শেখ মইনউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।
শেখ মইনউদ্দিন বলেন, এটি কেবল দুটি নতুন বাসের উদ্বোধন নয়—এটি আমাদের সক্ষমতার প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বিআরটিসিকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতে যেন শুধু নিজেদের বহরের বাসই নয়, বাইরের বাসও এখানে সংযোজন করা যায়—সেই সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, এই দুটি এসি বাস নির্মাণ শুধু সূচনা মাত্র। আমাদের মেধা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। বিআরটিসির সম্প্রসারণের সুযোগ অনেক বেশি এবং আমরা সংস্থাটিকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। এটি নতুন যুগের সূচনা।
সভাপতির বক্তব্যে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, বিআরটিসি কেবল একটি পরিবহন সংস্থা নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব প্রশিক্ষণ অবকাঠামো, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সমন্বিত সক্ষমতারই বাস্তব উদাহরণ হলো দেশিয়ভাবে নির্মিত এই এসি বাস।
তিনি বলেন, পুরনো বহর ও বাড়তি ব্যয়ের মধ্যেও উন্নত ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে। বর্তমানে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারা দেশের বাস ও ট্রাক রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বহর আধুনিক করতে কোরিয়া থেকে ৩৪০টি উন্নত বাস আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন ট্রাক ও কোস্টার বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
