দেশজুড়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পন্ন, লক্ষ্য ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু
দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যে রোববার জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভিটামিন 'এ' ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হয়েছে। ঠিক কতজন শিশু ক্যাপসুল পেয়েছে, সেই তথ্য পেতে আরও তিন দিন সময় লাগবে। আজ কিছু কেন্দ্রের তথ্য হাতে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো।'
সকালে রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিগত সরকারের সময় পর্যাপ্ত টিকার মজুত না থাকায় হাম (মিজলস) শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। তখন আমাদের হাতে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুলও ছিল না। পরে ইউনিসেফের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন 'এ' সংগ্রহ করা হয়েছে।'
তিনি জানান, বর্তমানে সরকারের কাছে লাল ও নীল মিলিয়ে ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় ক্যাম্পেইনের জন্য ২ কোটি ৫৫ লাখ ক্যাপসুল সারা দেশে পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'শুধু ভিটামিন 'এ' খাওয়ালেই হবে না, শিশুদের অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। জন্মের পরপরই শালদুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। শালদুধের চেয়ে বড় ভিটামিন আর কিছু হতে পারে না।'
তিনি আরও বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ভিটামিন 'এ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ক্যাপসুলের মান নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুলের মান আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। ইউনিসেফের সহযোগিতায় উন্নতমানের ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে মান যাচাইয়ের পরই দেশে আনা হয়েছে।'
তিনি বলেন, প্রথম দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে তা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
এবারের ক্যাম্পেইনে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটসহ প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিতরণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
যেসব শিশু রোববার ক্যাপসুল গ্রহণ করতে পারেনি, তারা সোমবার নিজ নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল পাবে। এছাড়া ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় আরও চার দিন বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে ভিটামিন 'এ' কার্যক্রম যুক্ত করা হয়। পরে ২০০৩ সালে এটি পৃথক কর্মসূচি হিসেবে 'জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন' নামে চালু হয়, যা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।
২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) অপারেশন প্ল্যানের আওতায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। অপারেশন প্ল্যান বিলুপ্ত হওয়ায় চলতি বছর থেকে এটি আবার জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে সর্বশেষ জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ। প্রায় ১৫ মাস পর এবার একযোগে সারা দেশে এক দিনের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলো।
