বেসরকারি খাতে বাধ্যতামূলক পেনশন ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা সরকারি বিভাগের অঙ্গীকার বিএনপির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইশতেহারে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক পেনশন স্কিম চালু এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও বীরত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা বিভাগ গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠন, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা এবং 'প্রতিহিংসার রাজনীতি'র বদলে মেধা-ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
ইশতেহারে অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক পেনশন ফান্ড চালুর কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের কর্মীরা রাষ্ট্রীয় অবসরকালীন সুবিধার বাইরে থাকায় বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে এই 'পেনশন ফান্ড' গঠন করা হবে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে বিএনপি একটি 'প্রাইভেট সার্ভিস রুলস' বা বেসরকারি চাকরি বিধিমালা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে বেসরকারি খাতের কর্মীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায় এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরির মানের বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
বিএনপির এবারের ইশতেহারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষা ও একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের অঙ্গীকার করেছে দলটি। এই বিভাগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের কল্যাণ এবং আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে কাজ করবে।
ইশতেহার অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিভাগটি শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা এবং আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি তদারকি করবে। এ ছাড়া বিএনপি 'জুলাই হত্যাকাণ্ড' এবং সে সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে আইনি রক্ষাকবচ নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে।
দলটি 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়ন এবং দেশে পুনরায় স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
এই প্রতিশ্রুতিগুলো বিএনপির একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক এজেন্ডার অংশ, যার মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইশতেহারে আরও জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ৫ লাখ সরকারি পদে লোক নিয়োগ করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষম বণ্টন নিশ্চিতে চালু করা হবে 'ফ্যামিলি কার্ড'। সব মিলিয়ে মেধা-তন্ত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
