এবার কোনো ভোট ইঞ্জিনিয়ার, ভোট চোরদের ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াতের আমীর
এবারের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের ভোট ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ভোট চোরদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, "আমরা ১৩ তারিখ থেকে জামায়াতের কোনো সরকার চাই না; আমরা ১৩ তারিখ থেকে কোনো দলীয় সরকার চাই না। আমরা কোনো পরিবার এবং গোষ্ঠীতান্ত্রিক সরকারও চাই না, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই না, আমরা চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের বিজয়। সেই বিজয় অর্জিত হলে—সেটা সকলের বিজয় হবে। সেইদিন আল্লাহর মেহেরবানীতে সিজদায় পড়ে যাব। আপনারা এখন থেকে দোয়া করতে থাকেন, কোন কালো চিল আসমান থেকে এসে ছোঁ মেরে যেন আমাদের স্বপ্নকে এলোমেলো করে দিতে না পারে, এখন থেকে পাহারা বসাবেন। কোনো ভোট ডাকাত, কোনো ভোট চোর, ভোট ইঞ্জিনিয়ার—কাউকে এবার কোনো ছাড় নাই।"
ডা. শফিকুর বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশে দুই ধরনের উন্নয়ন হয়েছে—একদিকে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অন্যদিকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার ধস ও অর্থপাচারের 'উন্নয়ন'। আমরা এই দ্বিতীয় ধরনের উন্নয়ন আর চাই না। আমরা চাই জনগণের উন্নয়ন, ১৮ কোটি মানুষের উন্নয়ন।
তিনি আরও বলেন, "১২ তারিখে দুটি ভোট হবে—একটি নির্বাচন, অন্যটি গণভোট। 'হ্যাঁ' মানে আজাদী, 'না' মানে গোলামী। অতীতে যাদের খাসলত খারাপ ছিল, এখনো যারা লোভ সামলাতে পারেনি, সেই বিড়ালের হাতে গোশত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের মান, জাত এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা দিবে? এখনই দিচ্ছে না, তখন দিবে? দিবে না। আফসোস তারাও মজলুম ছিলেন, কিন্তু কেন যে এখন বদলে গেলেন বুঝতে পারলাম না। বিভিন্ন জায়গায় দখলদারিত্বে নিতে গিয়ে নিজেদেরই ২৩৪ জন শেষ। তারপর এখন আমাদেরকে খুন করা শুরু হয়েছে। এরপর এখন আমাদেরকে গালি দেওয়া শুরু করেছে, যাদের মানুষ মারা গেল, যারা চাঁদাবাজি করে না, যারা মানুষকে কষ্ট দেয় না, দুর্নীতি করে না, যারা মামলাবাজি করে না, যারা বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষকে হয়রান করে না, তাদেরকে এখন বলা হচ্ছে জালেম। হায়রে আল্লাহ, একি দুনিয়ায় পড়লাম আইস্যা?"
জামায়াতের আমীর বলেন, এদেরকে বলবো চোখ মেলে দেখেন জনগণ আপনাদেরকে কীভাবে দেখে? আজকে যুবকদের উত্থান শুরু হয়েছে—পরিবর্তনের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। মা-বোনদের উত্থান শুরু হয়েছে পরিবর্তনের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে।
তিনি বলেন, "এই দৃশ্য দেখে অনেকে নার্ভাস। নার্ভাস হয়ে...আপনাদের এখানে এখন মাঘ মাস না? না চৈত্র মাস? মাঘ মাসে যে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে, এরা চৈত্র মাসে কি করবে? মাথা ঠান্ডা রাখেন, গরম করবেন না। রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় আসেন। আপনি রেগে গেলেন, তো হেরে গেলেন। এটাই হেরে যাওয়ার পূর্বাভাস। শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জানিয়ে দিয়েছেন লালকার্ড। আগামি ১২ তারিখেও হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লালকার্ড। ফ্যাসিবাদ নতুন না পুরাতন, দ্যাটস ইমম্যাটারিয়াল; এটা বিবেচনার বিষয় না, ফ্যাসিবাদ তোমাকে লালকার্ড। তুমি যে ফ্রেম গায়ে দিয়ে আসো তোমাকে অবশ্যই লালকার্ড জানাব।"
রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর বলেন, রাজশাহীতে মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ স্থাপন জরুরি হলেও সেই উদ্যোগ ঘুমিয়ে আছে। জনগণের রায় পেলে সেই ঘুমন্ত প্রকল্প টেনে জাগিয়ে তোলা হবে। তিনি রাজশাহী সুগার মিলের লোকসানের জন্য চুরি ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন এবং সৎ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিল্পকারখানাকে লাভজনক করার অঙ্গীকার করেন।
নির্বাচনি এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কেরামত আলী। নগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও রাজশাহীর বিভিন্ন আসনের সংসদীয় প্রার্থীরা। জনসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
