বাংলাদেশে আমলারা প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী: আসিফ নজরুল
বাংলাদেশে আমলারা প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, 'আমলারা মনে করেন অফিসার হওয়াটাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, কিন্তু অফিসার হওয়ার পর যে দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধ থাকার কথা, সেই চেতনার অভাব রয়েছে।'
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা 'বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি'- বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমলাতন্ত্রের স্থবিরতার বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, 'এটা কেন আমি জানি না। এটা ব্যক্তি হিসেবে উনাদের দোষ, নাকি আমাদের সিস্টেমের দোষ; আমি জানি না। আমি চিৎকার-চেঁচামেচি করতাম... উল্টা আমি বকা খেতাম। এমনও হয়েছে যে আমার চোখে পানি চলে আসত যে আপনি এটা কেন করলেন না? এতদিন যাবত ফাইলে সই কেন করলেন না?'
নিজের সরকারি কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি আমলাতন্ত্রের স্থবিরতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার বিষয়গুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, 'এমন স্থবির আমলাতন্ত্র নিয়ে দেশ কীভাবে এগোবে, সরকারে কাজ করার পর এই দুশ্চিন্তা আমার সবসময় থাকবে।'
আমলাদের কাজের পদ্ধতির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাজের গতির তুলনা করেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, 'প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের পুরো অফিসটাই যেন হোয়াটসঅ্যাপে। তিনি হোয়াটসঅ্যাপেই কারেকশন করে দেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে কাজ হয়ে যায়। অথচ ২৯-৩০ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তারা হোয়াটসঅ্যাপে অফিশিয়াল যোগাযোগ বা ডকুমেন্টস পাঠাতে অভ্যস্ত নন। তারা ফাইল ছাড়া বোঝেন না।'
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা কেবল কেরানি নন যে ধরাবাঁধা নিয়মে কাজ করবেন। ইউ আর অ্যান অফিসার। অফিসারদের স্বাধীন বিচার-বুদ্ধি ও ক্ষমতা থাকতে হবে। নিয়ত শুদ্ধ থাকলে কাজের স্বার্থে প্রয়োজনে ব্যাক ডেটে (অতীতের তারিখে) মিটিং দেখান, কিন্তু কাজটা তো করতে হবে।'
এসময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ করার সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেন পরিবেশ, জলবায়ু ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, প্রশাসনে এখন 'এ তো ওদের লোক, ও তো এদের লোক' বলে বিভাজন করা হয়। এই ট্যাগিংয়ের ওপর ভিত্তি করেই প্রমোশন দেওয়া বা আটকানো হয়, যা মেধাবী কর্মকর্তাদের হতাশ করছে।
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে অতিমাত্রায় দলীয়করণের কারণে আমলাতন্ত্র তার সৃজনশীলতা হারিয়েছে।'
উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করেন,বর্তমান সিস্টেম থেকে আর ফজলুল কবির খান, আলী ইমাম মজুমদার বা আকবর আলি খানের মতো দক্ষ ও সৃজনশীল আমলা তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুবউল্লাহ প্রমুখ।
