৮ ফেব্রুয়ারির পরে পোস্টাল ব্যালটে নতুন মার্কা যুক্ত করা হবে না: ইসি
৮ ফেব্রুয়ারির পরে নতুন করে কোনো প্রার্থী যুক্ত হলে পোস্টাল ব্যালটে নাম ও মার্কা যুক্ত করা যাবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে ইসির এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাছাই ও আপিল শেষে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। এরপর অনেকে আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফেরত পান। এখন ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রয়েছে ২০১৭ জন।
বিরাজমান পরিস্থিতি নতুন করে প্রার্থী যোগ হওয়ায় বেশ কিছু আসনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে জটিলতায় পড়ে ইসি।
বৃহস্পতিবার এ নিয়ে কমিশনের আলোচনার পর পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ ব্রিফিংয়ে জানান, 'প্রশ্ন এসেছে কত সময় পর্যন্ত কনস্টিটিয়েন্সি বা নতুন প্রার্থীর সংযোজন নির্ধারণ করা যেতে পারে, যাতে পোস্টাল ব্যালটের ভোটটা যেন নিশ্চিত করা যায়।'
তিনি বলেন, 'এখানে একটা রেলিভেন্ট টাইম, একটা প্রাসঙ্গিক সময়ের একটা ব্যাখ্যা দরকার ছিল। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাননীয় আদালত যদি কারোর প্রার্থিতা বহাল, পুনর্বহাল করেন বা দেন; তাহলে সেই পর্যন্ত আমরা এটা আপনার পোস্টাল ব্যালটে তাদেরকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টা বিবেচনায় নেব বা করা যেতে পারে।'
ভোটের তিন আগে হলে তা আর পোস্টাল ব্যালটে যুক্ত করে পাঠানো সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
ব্যাখ্যা তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, 'কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারির পরে যদি কারো প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়, সেক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, ব্যালট ছাপিয়ে তাদেরকে পাঠিয়ে তারপরে রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে ফেরত পেতে যে সময়টুকু দরকার, সে ন্যূনতম সময়টুকু থাকবে না। কাজে চেকআউট ডেট হচ্ছে ৮ তারিখ প্রাসঙ্গিক সময়ের সাথে সম্পর্কিত।'
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য দেশে ও বিদেশে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। ৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়েছে।
বিদেশে বসবাসরত কোনো বাংলাদেশি ভোটার আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি) নামে। আর দেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) নামে।
নিবন্ধিত মোট ভোটারের মধ্যে প্রবাস থেকে আবেদন করেছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন এবং দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন।
এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার প্রতিদ্বন্দ্বি রয়েছে। এরমধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে; বাকিরা হচ্ছে ৫১টি দলের প্রার্থী। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল, তখন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন ১৯৭২ জন। যারা ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পান।
আদালতের আদেশে ৪০-৪৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। সবশেষ মঙ্গলবারও চট্টগ্রাম-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন একজন। এরপর বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানায়, এখন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর জন্য ২০১৭ জন।
৭ আসনে 'দাঁড়িপাল্লা' চায় না জামায়াত, প্রত্যাহারের সুযোগ নেই জানাল ইসি
এদিকে ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতায় সাতটি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর (২৩ ও ২৪ জানুয়ারি) জামায়াতের প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না দিতে ইসিকে অনুরোধ জানায় দলটি।
ইসি বলেছে, এখন প্রতীক প্রত্যারের সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছেও পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১৬(২) এ "যেক্ষেত্রে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী কোনো ব্যক্তি, তৎকর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত নোটিশ দ্বারা, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখে বা উহার পূর্বে, তিনি স্বয়ং বা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারকে কোনো প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং উক্ত দলের অন্যান্য প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত হবে।
এ অবস্থায় প্রতীক প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে জামায়াতকে। যে সাত আসনে প্রতীক প্রত্যাহার চেয়েছিল জামায়াত- চট্টগ্রাম-৮, নরসিংদী-২, ভোলা-২, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-১ ও চট্টগ্রাম ১২।
চট্টগ্রাম ৮ ও নরসিংদী-২ এনসিপিকে, ভোলা-২ ও চট্টগ্রাম এলডিপি, নরসিংদী-৩ ও নারায়ষগঞ্জ-৩ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, সুনামগঞ্জ-১ নেজামে ইসলাম পার্টি এর সঙ্গে সমঝোতা করে জামায়াত।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার ইতোমধ্যে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে ইসি। তাই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সারাদেশের প্রিন্টিং প্রেসগুলোকে পোস্টার মুদ্রণ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।
২৯ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ইসির উপ-সচিব মনির হোসেন এ এ চিঠি পাঠান।
এতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
আচরণ বিধিমালার বিধি-৭(ক) অনুযায়ী, 'নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাইবে না।'
এই পরিপ্রেক্ষিতে ইসির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যেন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করতে না পারেন। একই সঙ্গে নির্বাচনি পোস্টার মুদ্রণ বন্ধ রাখতে প্রিন্টিং প্রেসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলছে ইসি।
