জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের বিদেশে চিকিৎসায় লাগবে কেন্দ্রীয় বোর্ডের অনুমতি
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে 'কেন্দ্রীয় মেডিকেল বোর্ড' গঠন করেছে সরকার। এখন থেকে কোনো আহত ব্যক্তিকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হলে এই বোর্ডের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য কেন্দ্রীয় মেডিকেল বোর্ডের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকার কমান্ড্যান্ট; ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক; জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) পরিচালক এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসার জন্য আগে গঠিত বিষয়ভিত্তিক মেডিকেল বোর্ডগুলোর সুপারিশ যাচাই-বাছাই করবে এই কেন্দ্রীয় বোর্ড। একই সঙ্গে দেশের যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রস্তাবিত কেসগুলো পর্যালোচনা করে মতামত দেবে এবং সে বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে। প্রয়োজনে বোর্ড অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সরকারি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তির সংখ্যা বর্তমানে ১৩ হাজার ৮০০ জন। তাদের মধ্যে ৭৫ জনকে ইতিমধ্যে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিদেশে নেওয়ার জন্য আরও ৫০ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব চিকিৎসা ও ফলোআপ বাবদ এ পর্যন্ত মোট ৭৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে একাধিকবার ফলোআপ চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মঈনুল আহসান বলেন, 'আগে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য আলাদা আলাদা মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে আহতদের বিদেশে পাঠানো হতো। এখন গুরুতর আহতের সংখ্যা কমে আসায় একটি কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠন করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে আহতদের বিদেশে যেতে হলে এখন এই বোর্ডের অনুমতি বাধ্যতামূলক।'
