ঋণের ২৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এস আলম ও পিকে হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু
জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকা বিশেষ জজ আদালতের ৮ নম্বর বিচারক নূরে আলম ভুঞা এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১ মার্চ তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
বিচারে অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলেন—এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস। এছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি.-এর সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক বর্তমানে কারাগারে আছেন। বাকি ১১ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
চার্জগঠন শুনানিকালে কারাগারে থাকা আসামি নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন। তাদের আইনজীবীরা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'শুনানিকালে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। দুই আসামির পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। অন্যান্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা চার্জগঠন শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি।'
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ-৮ নম্বর আদালতে বদলির নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর মেসার্স সাইফুল এন্ড কোং-এর অনুকূলে 'তাসনিম ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড' নামের প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করা হয়। ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর সেই ঋণ বিতরণ করা হলেও টাকাটি একই পদ্ধতিতে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি.-এ স্থানান্তরিত হয়।
ওই ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে একই বছরের ১৬ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাঈল ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
