এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিচার শুরুর আদেশ
জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
মামলায় বিচার শুরু হওয়া অন্য আসামিরা হলেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস।
এছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে রয়েছেন। অন্যরা পলাতক।
দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানির সময় দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। কারাগারে থাকা দুই আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জ গঠনের আদেশ দেন।
চার্জ গঠনের সময় আসামি নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। একই দিনে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মামলাটি ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করান এবং ৯ সেপ্টেম্বর ওই অর্থ বিতরণ করা হয়। পরে সেই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি অনুসন্ধান করে দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীন হক গত বছরের ২ জুলাই মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৬ অক্টোবর তিনি ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
