তথ্য অধিকার আইন সংশোধন: জরুরি ছয় বিষয় অন্তর্ভুক্তির দাবি তথ্য অধিকার ফোরামের
তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তি সহজতর করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৬টি 'অতি জরুরি' সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তথ্য অধিকার ফোরাম।
সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদ তথ্য অধিকার আইন সংশোধনে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংগঠনটি এক বিবৃতি প্রদান করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনই একমাত্র আইন যা জনগণ সকল কর্তৃপক্ষের ওপর প্রয়োগ করতে পারে। তবে আইনটি প্রণয়নের দেড় দশক পার হলেও জনসচেতনতার অভাব এবং তথ্য প্রাপ্তির বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আইনের কার্যকর সংশোধন এখন সময়ের দাবি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ মার্চ তথ্য অধিকার ফোরাম আইনের বিভিন্ন ধারার ওপর ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠিয়েছিল। বর্তমানে অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়ায় নিম্নোক্ত ৬টি বিষয়কে 'অতি জরুরি' হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে ফোরাম:
১. তথ্যের সংজ্ঞায় নোট শিট অন্তর্ভুক্তি: নথির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোন কর্মকর্তা কী ভূমিকা পালন করেছেন তা স্পষ্ট করতে 'তথ্যের সংজ্ঞা'র (ধারা ২-চ) মধ্যে 'নোট শিট' অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২. কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি: বিধিবদ্ধ সংস্থার পাশাপাশি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা স্থানীয় সরকার সংস্থাকে সংজ্ঞায় যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি চুক্তি বা লাইসেন্সের অধীনে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা এবং নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে 'কর্তৃপক্ষ' হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৩. কমিশনের নামকরণ: ধারা ১১(১) অনুযায়ী 'তথ্য কমিশন'-এর নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ তথ্য কমিশন' করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৪. শূন্যপদ পূরণ: প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারদের পদ শূন্য হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য একটি নতুন উপধারা (১৫-৮) সংযোজনের দাবি জানানো হয়েছে।
৫. পদমর্যাদা ও সুবিধাদি: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যথাক্রমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের সমান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৬. আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা: বর্তমানে কেবল তথ্য কর্মকর্তাদের শাস্তির বিধান থাকলেও, আপিল কর্তৃপক্ষ যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তথ্য প্রদানে বাধা দেয় বা আপিল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাদেরও জরিমানার (ধারা ২৭) আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ফোরাম।
বিবৃতিতে তথ্য অধিকার ফোরাম আরও জানায়, যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ৬টি প্রস্তাবনা অত্যন্ত জরুরি, তবে আইনের লক্ষ্য অর্জনে এবং পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ফোরামের পূর্ববর্তী ৩৭টি প্রস্তাবনাকেও পর্যায়ক্রমে বিবেচনায় নিয়ে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। ফোরাম মনে করে, এই সংশোধনীগুলো নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকারকে আরও শক্তিশালী করবে।
