ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগ এনে ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করলেন ডাকসুর তিন নেতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে 'চাঁদাবাজি'র অভিযোগ এনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) তিন নেতা। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভিডিওটি প্রদর্শন করান ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, 'আজকের এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে চাঁদাবাজি মুক্ত করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সারা বাংলাদেশের মস্তিষ্ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজ মুক্ত করা যায় তাহলে সারা দেশ থেকে এসব মুক্ত করা সম্ভব। সেই জায়গা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চাঁদাবাজি চলে সেটার তথ্য-প্রমাণসহ সত্য উন্মোচিত করার জন্যই আজকের এই আয়োজন।'
তিনি আরও বলেন, 'গতকাল রাতে চাঁদাবাজির তথ্য প্রকাশ করার পর থেকেই এক ধরণের ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। যেসব দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা যদি দায়িত্বশীল হতেন তাহলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। কিন্তু আমরা দেখছি সেটি না করে ছাত্রদল এসব ঘটনার ডিফেন্স করা শুরু করেছে। নিজের দলকে চাঁদাবাজ মুক্ত না করে উল্টো অভিযোগ দিয়ে তা হাস্যকর ঘটনায় পরিণত করেছে।'
উল্লেখ্য, গত মধ্যরাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডাকসু নেতা, ছাত্রদল নেতা এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি নেতাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি ভ্রাম্যমাণ স্ট্রিট ফুড কার্টে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করছেন এবং পরবর্তীতে সেই ফুড কার্টে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করে।
এর আগে বণিক বার্তায় কর্মরত সাংবাদিক মো. মুহাইমিনুল ইসলাম গতকাল রাতে তার ফেসবুক টাইমলাইনে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখেন— চাঁদাবাজির খবর প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাবি ছাত্রদলের কর্মীরা একটি দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এ বিষয়ে তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দাবি করেন যে, তার কাছে এ সংক্রান্ত প্রমাণ রয়েছে।
ভাইরাল হওয়া পোস্টটিতে ঘটনাস্থল হিসেবে টিএসসি এলাকা উল্লেখ থাকলেও ঘটনার নির্দিষ্ট তারিখ ছিল না। তবে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা এক পোস্টে জানান, ঘটনাটি গত ২৭ ডিসেম্বরের। তিনি এই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পাঁচজন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হাসান সাদ, বিলুপ্ত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য সানাউল্লাহ সানি, উমামা-ফাতেমা প্যানেল থেকে ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী আবিদ আব্দুল্লাহ এবং সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার মাহমুদ।
সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেন, আবিদ ও সাদের অধীনে কাজ করা এক ব্যক্তি (দোকান পরিচালনাকারী) লাভ ভাগাভাগির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
