অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কিছু এলাকায় চাঁদাবাজি বেড়েছে ২০–৫০ শতাংশ: ডিসিসিআই
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দেশের "রুগ্ন অর্থনীতি" পুনরুদ্ধারে নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি চাঁদাবাজির ব্যাপকতা ও সরকারি খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) 'রোড টু রিভাইভাল' শীর্ষক বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনকালে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ জানান, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের কিছু এলাকায় কারখানা পর্যায় ও সরবরাহ শৃঙ্খলে চাঁদাবাজি ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড "রাতারাতি কঠোরহস্তে দমন" না করা হলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত পারস্পরিক শুল্ক-সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য চুক্তিরও সমালোচনা করেন, যা একটি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ)-এর আওতায় করা হয়েছে।
ডিসিসিআই প্রধান ওই চুক্তিকে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, এর ফলে বাংলাদেশকে ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়েছে এবং ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "আমাদের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত জিডিপির ১৩ শতাংশ অবদান রাখে, আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আমাদের জিডিপির ২ শতাংশেরও কম। ১ শতাংশ শুল্ক হ্রাসের জন্য আমরা বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ বা অন্যান্য প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কে আপস করতে পারি না।"
তিনি বর্তমান সরকারকে কৌশলগতভাবে চুক্তিটি পুনঃআলোচনার আহ্বান জানান।
লজিস্টিক ও জ্বালানি খাতে ডিসিসিআই চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা শুল্ক ৪১ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানায় এবং দৈনিক ৯২৫ এমএমএসসিএফডি গ্যাস ঘাটতি পূরণে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি সরকার ঘোষিত কর-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রাকে স্বাগত জানালেও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শতভাগ অটোমেশন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে, যাতে হয়রানি কমে।
ডিসিসিআই কোভিড-১৯ মহামারি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা অন্তত তিন বছর পিছিয়ে দিতে জাতিসংঘে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
আর্থিক খাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাসকিন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণে গ্রেস পিরিয়ড ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাসে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তার দাবি, এর ফলে খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে স্ফীত হয়ে ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ।
ঋণের সুদহার ১৬–১৭ শতাংশে পৌঁছানোয় ডিসিসিআই সভাপতি নীতি সুদহার কমানো এবং প্রকৃত ব্যবসাগুলোর জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালুর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ও উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কার্যকরী মূলধনের সংকটে ভোগা প্রকৃত ব্যবসাগুলো এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাসকিন আহমেদ বলেন, "ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, তবে প্রকৃত এসএমই ও ব্যবসাগুলোরও টিকে থাকার সুযোগ দরকার। ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা পুনর্বিবেচনা, নীতি সুদহার হ্রাস এবং ঋণের ব্যয় কমাতে ভর্তুকিযুক্ত ক্রেডিট লাইন চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নিতে আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।"
