চাঁদাবাজদের জন্য জনতা ‘লাল কার্ড’ প্রস্তুত রেখেছে; তাদের চিহ্নিত করতে অ্যাপ চালু করব: জামায়াত আমির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের স্থান হবে না এবং চাঁদাবাজদের জন্য জনতা 'লাল কার্ড' প্রস্তুত রেখেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাকায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন এবং ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, 'নতুন পেশা হিসেবে যারা চাঁদাবাজিকে বেছে নিয়েছেন, তাদের জন্য সাফ কথা—কমপ্লিট লাল কার্ড। আমরা চাঁদাবাজদের ভাই, পিতা বা সন্তান হতে চাই না। চাঁদাবাজি ভিক্ষাবৃত্তির থেকেও নিকৃষ্ট। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা দুটি অ্যাপ চালু করব—একটি চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করার জন্য এবং অন্যটি এলাকার সমস্যা সরাসরি জনপ্রতিনিধির কাছে পৌঁছানোর জন্য।'
নারীদের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা আমাদের কাছে জীবনের চেয়েও বেশি। আমরা কর্মজীবী নারীদের চলাচলের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস এবং সরকারি দ্বিতল বাসে নারীদের জন্য নিচতলা সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করব। ঘরে, বাইরে এবং কর্মস্থলে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।'
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই এলাকা জুলাই আন্দোলনের সাক্ষী। শহীদ মায়েদের চোখে আমি পানি নয়, রক্তের ফোঁটা দেখেছি। আমরা আর বস্তাপচা রাজনীতি চাই না। ১২ তারিখের নির্বাচনে 'হ্যাঁ' মানে আজাদি, আর 'না' মানে গোলামি।
যুব সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে ঘরে বসিয়ে রাখতে চাই না। আমরা তাদের দক্ষ কারিগরে পরিণত করতে চাই। বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দক্ষ করে তাদের আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করা হবে। কারিগরের হাত কারো দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে না।'
আইনের শাসন নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, 'ইনসাফের সমাজে সাধারণ মানুষের যে বিচার হবে, প্রেসিডেন্ট অপরাধ করলে তারও একই বিচার হবে। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয় মাস পর পর জনগণের মুখোমুখি করা হবে এবং তাদের কাজের হিসাব দিতে হবে।'
এলাকার জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, 'এখানে জলাবদ্ধতা, খোলা ড্রেন, দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্নতা, নদীর জীবন খতম, ময়লার ভাগাড় নদীকে বানানো হয়েছে এই সবগুলো আমাদের মাথায় আছে। দোয়া করবেন আগামীতে আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই ঐ এলাকার যিনি কাউন্সিলর হবেন, যিনি মেয়র থাকবেন, এমপি যিনি হবেন—বছরে চারবার তাদেরকে এই নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। যখন তিন মাস পর পর নদীর পানিতে গোসল করবেন কারো জানা থাকবে না কোন দিন সেই ডেট, একই ডেটে সবাই না, ভিন্ন ভিন্ন ডেটে। কাজেই এই নদীর পানিকে মুক্তার মতো পরিষ্কার রাখতে তারা বাধ্য হবেন। সমাজের দায়িত্ব যিনি পালন করতে পারবেন চৌকিদার হিসেবে তার হাতেই সম্মানের চাবি তুলে দেওয়া হবে।'
জনসভা শেষে তিনি ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থীদের হাতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক তুলে দেন। জনসভায় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
