২০ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান
দীর্ঘ ২০ বছর পর বন্দর নগরী চট্টগ্রাম সফরে গিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
সর্বশেষ ২০০৫ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তারেক রহমান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই মূলত তারেক রহমানের এই সফর। এই সফরকে ঘিরে পুরো চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে এদিন দুপুরের পর থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন।
সেখান থেকে তারেক রহমান 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগান সংবলিত লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে হোটেলের উদ্দেশে রওনা হন। বিমানবন্দর থেকে পতেঙ্গা সৈকত হয়ে লালখান বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ পথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ স্লোগান দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তারেক রহমানও বাসের সামনের দিকে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে জনতার উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে বন্দর নগরীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের ড্রোন উড্ডয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন হাজার সদস্য পুরো রুট এবং হোটেলের আশেপাশে মোতায়েন রয়েছে।
দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ দিয়ে নগরীর প্রধান সড়কগুলো সাজিয়ে তুলেছেন, যা পুরো এলাকাকে এক বর্ণিল রূপ দিয়েছে।
আগামীকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এই জনসভা ঘিরেই মূলত সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে বিএনপি। বিশাল আকারের মঞ্চ তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, তারেক রহমানের এই সফর এবং আগামীকালের জনসভা চট্টগ্রামের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। সমাবেশ শেষ করে তিনি কুমিল্লা ও ফেনী হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানায়, জনসভা ঘিরে মঞ্চসহ পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হলে ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে পুরো এলাকা তল্লাশি চালানো হবে।
সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশীদ বলেন, 'সমাবেশকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আড়াই থেকে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আজ থেকেই নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।'
