দুই দশক পর চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান, অতীত জনসমাগমের রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য
দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় প্রধান হিসেবে এটিই তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর। আগামী ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টায় নগরীর ঐতিহাসিক রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এই সফরকে কেন্দ্র করে অতীতের সব জনসমাগমের রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিএনপি।
দীর্ঘ সময় পর দলীয় প্রধানের আগমন ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম নগরীর পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার থেকে নেতাকর্মীদের সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী ২৫ জানুয়ারি রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেদিনই নগরীতে অবস্থান করবেন। পরদিন সকাল ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেবেন।
তিনি বলেন, 'তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দলমত–নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন—এতে সাধারণ মানুষের মাঝেও আলাদা আবেগ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।'
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ড মাঠে দলীয় প্রধান হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর কারাবরণ, অসুস্থতা ও সরকারি বিধিনিষেধের কারণে বিএনপির কোনো দলীয় প্রধান চট্টগ্রামে আসেননি। প্রায় ১৪ বছর পর একই মাঠে দলীয় প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন।
এর আগে, তিনি ২০০৫ সালের ৬ মে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে চট্টগ্রাম সফরে এসেছিলেন এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। গত বছরের শেষে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলীয় প্রধান হিসেবে এটিই তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন। গণমানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। সিলেট–হবিগঞ্জের মতো এখানেও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে। অতীতের সব জনসমাগমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।'
তিনি আরও বলেন, 'চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে তারেক রহমান ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় ফিরতি পথে পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।'
সমাবেশ ঘিরে নগরজুড়ে জোরালো প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরাও মাইকিং করছেন। সর্বাত্মক জনসমাগম নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি টিবিএসকে বলেন, 'বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ট্রাকে করে সমাবেশের প্রচারণা চলছে, স্বাগত মিছিল হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় গানের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তরুণ ও যুবকদের সম্পৃক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীর বাইরেও তরুণ-যুবকেরা এতে অংশ নেবেন। তারা তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন।'
এদিকে বড় জনসমাগমের লক্ষ্যে পলোগ্রাউন্ড মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। মঞ্চটি ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের। মঞ্চের সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা অবস্থান করবেন। এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরের অংশে সাধারণ মানুষ অবস্থান নেবেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, 'আজ শুক্রবার বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী 'চেয়ারপার্সন সিকিউরিটি ফোর্স' (সিএসএফ) চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শনিবারের মধ্যেই মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।'
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান টিবিএসকে বলেন, 'চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় সমাবেশের রেকর্ড রয়েছে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার। সেই জনসমাগম ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা একমাত্র তারেক রহমানেরই আছে। তার আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে।'
