অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নে গঠিত টাস্কফোর্স কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের জন্য সরকার গঠিত টাস্কফোর্স কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত এক রিটের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রিট পিটিশনটি দায়ের করেন বাংলাদেশ ইউনানি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি লুৎফর রহমান। রিট পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাভোকেট সুব্রত চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব; ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের (ঔষধ প্রশাসন) সিনিয়র সহকারী সচিবকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার জারি করা রুলে আদালত বলেন, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১৮ সদস্যবিশিষ্ট টাস্কফোর্স, যা এসেনশিয়াল ড্রাগ লিস্ট তৈরি ও যৌক্তিক ওষুধ মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করার জন্য গঠিত, সেখানে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞদের বাদ দেওয়া হয়েছে তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
আদালত আরও বলেন, ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ২০২৩-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী এবং ক্যাবিনেট ডিভিশনের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বরের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই টাস্কফোর্সে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে কেন দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে না।
গত ৮ জানুয়ারি সরকার জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা সায়েদুর রহমান। নতুন ১৩৫টি ওষুধকে তালিকায় যুক্ত করে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা ২৯৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া জাতীয় ওষুধ মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা ২০২৫ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকা ঘোষণার সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান বলেন, 'অত্যাবশ্যকীয় ওষুধই প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট।'
তিনি বলেন, এই ওষুধগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হলে সাধারণ মানুষের জন্য এগুলো কেনা সহজ হবে ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। এই উদ্যোগকে তিনি 'যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত' বলে উল্লেখ করেন।
সায়েদুর রহমান আরও বলেন, একটি টাস্কফোর্স গত ১৪ মাস ধরে উৎপাদনকারী, গবেষক, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে মূল্য নির্ধারণের কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছে।
