আমিও চাই হাদির হত্যার বিচার হোক, এই হত্যাকাণ্ডে আমি জড়িত না: আসামি রবেল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় আমিও বিচার চাই, তবে আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই, আমি নির্দোষ। মামলাটির সঠিক তদন্ত হলে সব বের হয়ে আসবে বলে আদালতে দাবি করেছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে শুটার ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসামি মো. রুবেল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি রুবেল আহমেদকে আদালতে হাজির করেন পুলিশ।
এরপর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা তাকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার পরপর আসামি আত্মগোপনে চলে যান। বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি এবং সোর্সের তথ্য মোতাবেক আসামিকে ঢাকা জেলার ডিবি পুলিশ টিমের সহায়তায় কেরানীগঞ্জের আসামির বর্তমান ঠিকানা থেকে গত ২২ জানুয়ারি রাত ১২ টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এসব নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন। ঘটনার পূর্ব পরিকল্পনা এবং ঘটনার পরবর্তীতে এজাহারনামীয় আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের আত্মগোপনে থাকতে সহযোগিতা করার তথ্য প্রকাশ করেন।
আসামি মো. রুবেল আহমেদ এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদের ঘনিষ্ট সহযোগী। আসামি নাম-ঠিকানা যাচাই বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী মধ্যে দিয়ে তাকে এজলাসে ওঠানো হয়। এর বেশ কিছুক্ষণ পরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এজলাসে ওঠেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডে নেওয়ার স্বপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
এসময় তদন্ত কর্মকর্তার কথা মনোযোগ দিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শুনতে দেখে যায় আসামি রুবেল আহমেদকে। এরপর সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জালাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষ শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, 'ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন। তিনি সব সময়ে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলতেন। বর্তমান সরকার উৎখাতের চেষ্টাকারীদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলেছিলেন। মূল আসামি ফয়সাল ও গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে এই আসামির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মূল আসামিকে বিভিন্নভাবে রুবেল আহমেদ সহযোগিতা করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'মামলার প্রকৃতি রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামির ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি। তবে এদিন আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী ছিল না।'
এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি রুবেল আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বিচারক বলেন, 'আপনি কি কিছু বলতে চান? তখন আসামি বলেন, আমি নির্দোষ, আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত না। আমি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ থাকতাম।'
তিনি বলেন, 'নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী আমার বন্ধু ছিল। তবে পলিটিক্যাল বন্ধু নয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি ওসমান হাদির বিচার চেয়েছি। তবে এই হত্যার ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নয়। আমি নির্দোষ। মামলাটির সঠিক তদন্ত করলে সব খুঁজে পাবেন, স্যার।'
তিনি আরও বলেন, 'হাদির মৃত্যুর তিন মাস আগে মাত্র তিন মিনিট আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। এর বাইরে কোনো কথা হয়নি।'
কী বিষয়ে কথা হয়েছে বিচারক জানতে চাইলে জবাবে রুবেল বলেন, 'একটি ট্রেড লাইসেন্স ক্রয় করার বিষয় কথা হয়েছে। আমি একটি চায়না কোম্পানিতে কাজ করি। একটা লাইসেন্স ক্রয় করার বিষয়ে কথা হয়। আর কোনো কথা হয়নি। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।'
তিনি বলেন, 'রাব্বানী আমার বন্ধু, কিন্তু পলিটিক্যাল কোনো ইস্যুতে নেই। আপনি একটু দেখবেন, স্যার। আমি সম্পূর্ণভাবে ফেঁসে গেছি।'
এরপর বিচারক বলেন, 'তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য এবং আসামি সমর্থন করে স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছেন। মামলাটি অন্তত গুরুত্বপূর্ণ একটা মামলা। হত্যার পেছনে অনেক রহস্য রয়েছে। আসামি নিজেই একটি সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামির ৬ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করা হলো।'
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার পর এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
