নেমপ্লেট খুলে, মাস্ক পরে হামলার দাবি; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ইনকিলাব মঞ্চের
শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সংগঠনটির দাবি, আন্দোলনকারীদের ওপর বিনা উসকানিতে চড়াও হওয়া পুলিশ সদস্যদের অনেকেরই পোশাকে নেমপ্লেট ছিল না এবং তারা মাস্ক ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় পরিচয় গোপন করে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক ভিডিওবার্তায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ''আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্বের লঙ্ঘন করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।''
তিনি বলেন, ''আজকের ঘটনায় প্রতীয়মান হয়েছে প্রশাসন এখন আর অন্তর্বর্তী সরকারের কথায় চলে না, এই প্রশাসনকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে।''
ঘটনার বর্ণনায় ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, ওসমান হাদির স্ত্রী ও সঙ্গে থাকা নারীদের নিরাপত্তা দিতে মঞ্চের কয়েকজন কর্মী যমুনার দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ বাধা দেয়।
ডাকসু নেতা ফাতিমা তাসনিম জুমা ও জকসু নেতা শান্তার গায়ে পুলিশ হাত তোলার অভিযোগ তুলে জাবের বলেন, ''পুলিশ সদস্যরা বলছিল— 'আয় হাদির লাশ নিয়া যা। একজন পেশাদার পুলিশ সদস্যের মুখে এমন ভাষা মানায় না। তারা আমাদের খুন করার উদ্দেশ্য নিয়েই আক্রমণ করেছিল।"
তিনি বলেন, ''আমরা ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং যারা এই আক্রমণের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদেরকে অতি দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানাই।''
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে জাবের সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ''সরকারকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের কার্যালয়কে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং তদন্ত পরিচালনার অনুরোধ জানাতে হবে।''
জাবের বলেন, ''৮ ফেব্রুয়ারি সরকার যেহেতু জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর কথা বলেছে, আমরা সরকারকে সেই সময়টুকু দিলাম। সরকার যদি এই সময়টা আগেই ঘোষণা করত, তাহলে তো এই ধরনের কোনো পরিস্থিতিই তৈরি হতো না। যার কারণে আমার কাছে মনে হয় যে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।''
অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে ইনকিলাব মঞ্চের এ নেতা বলেন, ''নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন পেছানো যাবে না। নির্বাচনের পরে যেই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে কোনো সুষ্ঠু পদক্ষেপ না নেয়, আমরা তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানায় দেব।''
