সিরিয়াল কিলিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার: এর আগেও মাদক মামলায় দুই দফা গ্রেপ্তার হন সবুজ
ঢাকার সাভারে ৬ মাসে ৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সবুজ শেখকে এর আগেও মাদক মামলায় দুবার সাভার মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সবুজ স্থানীয়দের কাছে 'মানসিক ভারসাম্যহীন' ও মশিউর রহমান সম্রাট নামে পরিচিত ছিলেন।
তার এই গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম।
তিনি টিবিএসকে বলেন, 'সবুজ শেখ এর আগেও ২০১৯ ও ২০২৩ সালে সাভার মডেল থানায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। যদিও একেক সময় সে একেক নাম ধারণ করেছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে সে গ্রেপ্তার হয়েছিল মো. সম্রাট নামে এবং ২০২৩ সালে সে গ্রেপ্তার হয় টাইগার সম্রাট নামে।'
তিনি বলেন, 'এরপর আমরা যখন তাকে গ্রেপ্তার করলাম, তখন সে তার নাম জানায় মশিউর রহমান খান সম্রাট। যার দরুন নামের বিভ্রাটের কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়গুলো জানতে পারিনি। তবে পরবর্তীতে যখন আমরা যাচাই-বাছাই করছি, তদন্ত কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করছেন, তখন দেখা গেল যে তার নামে ইতোপূর্বেও মাদক মামলা রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা তার সম্পর্কে আরও তদন্ত করছি। এর বাইরে আর কোনো জেলায় তার কোনো অপরাধের ইতিহাস আছে কি না, সেসব বিষয়ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।'
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, 'সে (সবুজ শেখ) তো আসলে ছদ্মনাম ব্যবহার করত। দুইটা মামলাতেই সম্রাট নাম ব্যবহার করেছে। একটা মামলায় মো. সম্রাট, আরেকটিতে টাইগার সম্রাট। এছাড়াও দুটি মামলাতেই কেরানীগঞ্জের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পিতার নাম সঠিক আছে। পিতার নাম হিসেবে পান্না শেখ ব্যবহার করা হয়েছে। যার কারণে আমরা ধরে নিচ্ছি, এগুলো তারই মামলা।'
তবে কী ধরনের মাদকসহ সবুজ সে সময় গ্রেপ্তার হয়েছিল কিংবা সেসব মামলার বর্তমান অবস্থা কী, তাৎক্ষণিকভাবে সেটি জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, 'সিডিএমএস-এ (ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) তো আসলে বিস্তারিত তথ্য থাকে না, আবার থানার পূর্বের নথিগুলোও তো নাই। যার কারণে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। আমরা তার বিষয়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত করছি।'
এর আগে পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে গত রবিবার (১৮ই জানুয়ারি) সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে আগুনে পোড়া অজ্ঞাতনামা দুই জনের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সবুজের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর রাতে সাভারের মুক্তির মোড় এলাকা থেকে তাকে আটকের পর সবুজ শেখ নিজেকে মশিউর রহমান সম্রাট হিসেবে দাবি করলেও, তদন্তে নেমে সে সময় সবুজের দেওয়া নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পায়নি পুলিশ।
পরবর্তীতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এই সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির আসল নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দা গ্রামের (গরের বাড়ি) পান্না শেখের ছেলে।
