আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হবে।
উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভিল) রেখে আদেশ দেন। তবে, এখনও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালুকদারসহ অন্যরা।
আজ দিনভর আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন, মিরাজুল আলম ও আবুল হাসান।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, নির্ধারিত দিনে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি শুনেছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিপক্ষের যুক্তির জবাব তাৎক্ষণিক দিয়েছেন প্রসিকিউশন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে সংঘটিত এ ঘটনাটি ছিল চরম নৃশংস। গুলি করে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে লাশে আগুন দেওয়ার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
এ মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তাদেরমঙ্গলবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
তারা হলেন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ মামলায় দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর বাইরে আরও একজন গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশের গাড়িতে এই ছয়জনকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ।
