জুলাই অভ্যুত্থানে রামপুরা-বনশ্রীতে ২৮ হত্যা: লে. কর্নেল রেদোয়ানসহ ৪ জনের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। এই মামলার প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিজিবির আলোচিত সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে এ বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর মামলার প্রথম সাক্ষী বিশ্বজিৎ রাজবংশীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিশ্বজিৎ রাজবংশী রামপুরায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিজিবির গুলিতে নিহত গংগাচরণ রাজবংশীর ছেলে।
এদিন সকালে ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে মামলার গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি—লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে মামলার অপর দুই আসামি ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান এখনও পলাতক রয়েছেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর জবানবন্দি দেন বিশ্বজিৎ রাজবংশী।
জবানবন্দিতে বিশ্বজিৎ রাজবংশী জানান, তিনি পেশায় একজন এসি মেকানিক। তার বাবা গংগাচরণ রাজবংশী ছিলেন জাদুশিল্পী শাহিন শাহর ব্যক্তিগত গাড়িচালক। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আনুমানিক রাত ১০টার দিকে তার বড় ভাই মিঠু রাজবংশীর ফোনে একটি কল আসে। সেই ব্যক্তি ফোনকলে জানান, তার বাবাকে (গংগাচরণ রাজবংশী) বিজিবি গুলি করেছে। রামপুরা ব্রিজের ওয়াসা গেটের সামনে তার বাবা পড়ে আছেন। পরে তার মা, এলাকার দুই–তিনজনসহ তিনি (বিশ্বজিৎ) ঘটনাস্থলে যান। তারা গিয়ে দেখেন, তার বাবার বুকের ডান পাশে একটি গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরদিন তার বাবার মরদেহ পোস্তগোলা শ্মশানে সৎকার করেন তারা।
এর আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। উপস্থিত দুই আসামির পক্ষে লড়েন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলাকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ২৮ জন নিহত হন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলামকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা গেছে এবং অন্য আসামিরা এই হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রসিকিউশন এই চারজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পৃথক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
