সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায় বিজিএমইএ-বিকেএমইএ, নইলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
তৈরি পোশাক শিল্পের মূল কাঁচামাল সুতা বা ইয়ার্ন আমদানিতে নতুন করে প্রায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই সতর্কবার্তা দেয় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, 'এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে আমরা আমাদের শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।'
শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে 'আত্মঘাতী' আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'একটি ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে গিয়ে দুটি ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।' তবে কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
বিকেএমইএর এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান বলেন, 'নতুন করে ডিউটি [শুল্ক] আরোপের কারণে বায়াররা [ক্রেতা] ভীত। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বাজারের প্রতিনিধির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা এই বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি।'
সম্প্রতি দেশের সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোকে বাঁচানোর স্বার্থে সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এটি কার্যকর হলে ইয়ার্ন আমদানিতে প্রায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হবে। এর ফলে আমদানি নিরুৎসাহিত হবে এবং রপ্তানিকারকরা স্থানীয় বাজার থেকে সুতা কিনতে বাধ্য হবেন।
তবে রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, এতে প্রতি কেজি সুতায় তাদের ৩০ থেকে ৬০ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তি খরচ হবে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। তাদের মতে, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্প খাত এই বাড়তি চাপ বহন করতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেমসহ উভয় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
