৪ লাখ ডলার বকেয়া: আদিত্য বিড়লা সংশ্লিষ্ট ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধের নির্দেশ বিজিএমইএর
বকেয়া পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আদিত্য বিড়লা গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে নতুন কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন না করতে সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বাংলাদেশি এক রপ্তানিকারকের ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৩০ ডলারের বকেয়া পরিশোধ না করার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত মাসে সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিজিএমইএ জানিয়েছে, ডুকাটি অ্যাপারেলস লিমিটেডের বকেয়া পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত 'স্টাইলভার্স লাইফস্টাইল প্রাইভেট লিমিটেড' এবং এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কোনো নতুন লেনদেন করা যাবে না।
সংগঠনটি আরও সতর্ক করেছে যে বিজিএমইএর পূর্বানুমতি ছাড়া ওই কোম্পানির অনুকূলে কোনো ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) বা ইউপি (ইউটিলাইজেশন পারমিট) সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাবে না।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, স্টাইলভার্স লাইফস্টাইল প্রাইভেট লিমিটেড মূলত ভারতের আদিত্য বিড়লা গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যেখানে এই শিল্পগোষ্ঠীর ৫১ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে।
ডুকাটি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খায়ের মিয়া দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ওই ভারতীয় ক্রেতা প্রায় আড়াই বছর ধরে তার কোম্পানি থেকে পণ্য নিচ্ছিলেন; শুরুর দিকে তা ছিল স্বল্প পরিমাণে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্টাইলভার্স ৯৪ হাজার পিস পুরুষদের জগার্স ও কার্গো প্যান্টের অর্ডার দেয়। সেই অনুযায়ী পণ্য তৈরির পর মুম্বাই থেকে আসা এক প্রতিনিধি চালানটি পরিদর্শন করে গ্রহণ করেন। পরে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরের মাধ্যমে পণ্যগুলো ভারতে রপ্তানি করা হয়।
খায়ের মিয়া বলেন, 'চুক্তি অনুযায়ী কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে 'একসেপটেন্স' দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা তা দেয়নি।'
তিনি আরও জানান, যোগাযোগের পর কোম্পানিটি পরে পণ্যের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ তোলে। 'আমি ভারতে গিয়ে মান পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তাতে রাজি হয়নি।'
এরপর স্টাইলভার্স পণ্যগুলো অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেয়। খায়ের মিয়া বলেন, 'সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমি পুনরায় বিক্রির ব্যবস্থা করলেও তারা তাদের ব্র্যান্ড ট্যাগের দোহাই দিয়ে পণ্যগুলো ছাড়েনি। অবশেষে আমি পণ্যগুলো ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু কোম্পানিটি যখন ফেরত দিতেও ব্যর্থ হয়, তখন আমি দেশে ফিরে বিজিএমইএর কাছে অভিযোগ দায়ের করি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি এই পদক্ষেপ নিয়েছি কারণ রপ্তানি মূল্য দেশে না এলে আমার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠতে পারে এবং এটি আমার বন্ড লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে।'
অভিযোগ পাওয়ার পর বিজিএমইএ ওই কোম্পানি ছাড়াও বাংলাদেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে চিঠি পাঠায়।
বিজিএমইএ কোম্পানিটিকে মধ্যস্থতার (সালিশ) জন্য ঢাকায় আমন্ত্রণ জানালেও তারা তাতে অংশ না নিয়ে উল্টো বিজিএমইএকে আইনি নোটিশ পাঠায়। পরবর্তীতে বিজিএমইএ সব সদস্য কারখানাকে চিঠির মাধ্যমে জানায় যে ওই কোম্পানির সঙ্গে নতুন কোনো ব্যবসায়িক চুক্তিতে যাওয়ার আগে সংগঠনের অনুমোদন নিতে হবে।
সদস্যদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিজিএমইএ আরও জানায় যে তারা 'দ্য ইন্ডিয়ান গ্যারেজ কো', 'আদিত্য বিড়লা ফ্যাশন অ্যান্ড রিটেইল লিমিটেড' এবং 'গ্রাসিম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড' ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ভারতীয় এই ক্রেতারা মধ্যস্থতায় ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
বিজিএমইএ জানায়, এর ফলে ডুকাটি অ্যাপারেলস লিমিটেড আর্থিক সংকটে পড়েছে। সংগঠনটি তাদের সদস্যদের পরামর্শ দিয়েছে যে ওই কোম্পানি বা তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেন নতুন কোনো চুক্তি না করা হয়। নির্দেশ অমান্য করে কোনো সদস্য চুক্তিতে জড়ালে উদ্ভূত যেকোনো জটিলতার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সদস্যকেই বহন করতে হবে।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে জানান, তারা ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি লিখেছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিরোধটি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।
আদিত্য বিড়লা গ্রুপ ভারতের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠী, যার ব্যবসায়িক পরিধি ধাতু, সিমেন্ট, টেক্সটাইল, কার্বন ব্ল্যাক, আর্থিক পরিষেবা এবং খুচরা বিক্রয় (রিটেইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। তাদের ফ্যাশন ও রিটেইল ব্যবসা পরিচালনা করে আদিত্য বিড়লা ফ্যাশন অ্যান্ড রিটেইল লিমিটেড, যারা বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এবং নিজস্ব ব্র্যান্ডের পোশাক বাজারজাত করে।
বিজিএমইএ বলেছে, তারা বকেয়া পাওনা দ্রুত আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চাইছে এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ডুকাটি অ্যাপারেলস মূলত হাইসিন্থ গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যারা বৈশ্বিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য ডেনিম প্যান্ট, ওভেন বটমস এবং টি-শার্ট তৈরি করে থাকে।
