আপিল শুনানির ৮ম দিনে হট্টগোল, প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৪৩ জন
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানির ৮ম দিনে প্রার্থীদের মধ্যে হইহল্লা ও গোলযোগ দিয়ে শুরু হলেও ১১২টি আপিল শুনানির পরে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বহালসহ ৭৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বা বহাল রয়েছে, আর বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীসহ ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে ৮ম দিনের মতো আপিলের বিষয়ে শুনানি হয়। এতে নির্ধারিত দিনের ১০০টি আপিলসহ আগের বাকি থাকা ১২টি নিয়ে ১১২টির বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানির শেষ দিন রোববারের জন্য ১৯টি আপিল পেন্ডিং অবস্থায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ২ জন আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন।
অষ্টম দিনের আপিল শুনানিতে প্রথম দিনের শুনানিতে বাতিল হওয়া রংপুর-১-এর জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আপিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঞ্জুম আলীর আইনজীবী শনিবার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন এবং তার দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কিত তথ্য আপডেট করে দেওয়ায় তাবেদনটি গ্রহণ করা হয় বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
তবে অষ্টম দিনসহ বিগত দিনের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে যেসব আপিল ছিল, সেগুলো পেন্ডিং রেখে রোববার সবগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। শনিবারে ১৯টি পেন্ডিংয়ে রাখা প্রায় সবগুলো আপিলই দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে।
আইনজীবীকে 'ব্লাডি সিটিজেন' বললেন বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু
প্রার্থিতা বাতিলের জন্য করা আপিল আবেদনের শুনানিতে এসে ফেনী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু মেজাজ হারিয়ে একজন আইনজীবীকে 'ব্লাডি সিটিজেন' বলায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সকালে শুনানির সময় দেখা যায়, ইসির শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে এনসিপির আইনজীবি ও নেতা জহিরুল ইসলাম মুসা যখন একাডেমিক পরিবেশে তাদের সাবমিশন দিচ্ছিলেন, তখন আলোচনার শেষে আব্দুল আউয়াল মিন্টু মুসার দিকে তেড়ে আসেন। তখন তিনি মুসাকে 'ব্লাডি সিটিজেন' বলে গালি দেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির বৈধ প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি চলাকালে এই হট্টগোল হয়। ব্যাখ্যা গ্রহণের শেষদিকে আপিল শুনানি দুপুরে আধাঘণ্টার জন্য বিরতি দেয় কমিশন। সিইসির নেতৃত্বে পুরো কমিশন আসন ত্যাগ করার পরপরই মঞ্চের সামনে আপিলের পক্ষ-বিপক্ষের আইনজীবীরা জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তারা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় অন্য এক আপিলের শুনানির জন্য অডিটোরিয়ামে উপস্থিত কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ক্ষোভ প্রকাশ নিয়ে আপত্তি তোলেন। সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।
এ সময় আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে আইনজীবীরা সরিয়ে নিলে মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিরতির পর শুনানি শুরু হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ কমিশনের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু অশ্রাব্য ভাষা গালিগালাজ করেছেন। 'ব্লাডি সিটিজেন' বলে গালিগালাজ করেন এবং বল প্রয়োগেরও চেষ্টা করেন। এ সময় এনসিপির এই নেতা কমিশনের কাছে রুলিং দাবি করেন। একই সময়ে অপর এক আইনজীবী কিশোরগঞ্জের একটি আসনের বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর সমর্থকরা শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শুনানি শেষে নির্বাচন ভবনের সামনে তার ক্লায়েন্টকে মারধরের অভিযোগ আনেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, 'আমরা ঘটনাটি শুনেছি। এটাকে আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত বলি। আশা করছি, কেউ আর এই ধরনের ঘটনা ঘটাবেন না।' এ সময় তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য নির্বাচনি তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ দায়েরের জন্য পরামর্শ দেন।
লালমনিরহাটের সাত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল বাদশা মিয়ার
লালমনিরহাট-২ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু এদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য ৭ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাই ইসির আপিল বিভাগে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-এর (বিএনএফ) প্রার্থী বাদশা মিয়া।
শনিবার আপিল শুনানিতে বাদশা মিয়াসহ অন্য ৭ প্রার্থী হাজির হন। সেখানে সব প্রার্থীকেই বৈধ ঘোষণা করে ইসির আপিল বিভাগ। এই সাতজনের উকিল আনোয়ার হোসেন রেজা বলেন, নানা ধরনের ভুয়া অভিযোগ এনে লালমনিরহাট-২ আসন থেকে 'চক্রান্ত করে' বাদশা মিয়া অন্যায়ভাবে মনোনয়ন বাতিলের জন্য আপিল করেন—যা দেশের কোথাও কোনোদিন ঘটেনি। এ ধরনের হয়রানির জন্য তারা আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বাদশা মিয়ার ১ কোটি টাকা জরিমানা দাবি করেন।
'বিশেষ বিবেচনায়' প্রার্থিতা ফিরে পেলেন খাগড়াছড়ির জিরুনা ত্রিপুরা
'বিশেষ বিবেচনায়' প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার ভোটার সমর্থন দেখানোর কথা ছিল ৪ হাজার ৭৪১ জন। কিন্তু তিনি ৬১৩ জন ভোটার সমর্থকের স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন। বিপুল ভোটার সমর্থনের ঘাটতি থাকার অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে কমিশন শুনানি নিয়ে 'বিশেষ বিবেচনায়' তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি এলাকা হওয়ার এত সমর্থকের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন, সেটি পাননি। তবে বাছাইয়ের সময় সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার পরও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময় শেষ হয়ে যায়। ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছিলেন।
