সিলেট ওসমানী মেডিকেলে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে পরবর্তীতে রোগীর ওই স্বজনদেরও মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন হাসপাতালের স্টাফরা। এই সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, হামলার প্রতিবাদে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে বৈঠক করলেও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
জানা যায়, শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ থেকে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন তার স্বজনরা। ওই নারীর চিকিৎসা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান রোগীর স্বজনরা।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্টাফরা এসে রোগীর স্বজনদের মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এক নারী ও দুই পুরুষসহ তিনজনকে আটক করে। আটকদের মধ্যে দুজন আহত অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং একই থানার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
পুলিশ সূত্র জানায়, হামলার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, মধ্যরাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। সাথে সাথে হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
বিবৃতিতে তারা আরও জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনা তদন্তে শনিবার দুপুরে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। তিনি জানান, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। তাছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘটে থাকলেও হাসপাতালের সেবা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, 'হাসপাতালের মিড লেভেলের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন।'
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, 'আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছি। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ এসব দাবি সমাধান হলে আমরা যে কোনো সময় কাজে ফিরে যেতে প্রস্তুত।'
সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, 'বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলার ঘটনার পরপর নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়।' অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
