কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের ২০ দিন পর শিক্ষিকার বাসায় মা-মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর এক স্কুলছাত্রী ও তার মায়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ওরফে ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। যে বাসা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মীম বেগমের (২২)। মীম বেগমের কাছে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে যেতো।
এই ঘটনায় পুলিশ গত রাতেই মীম বেগমসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিক্ষিকা মীম বেগম ও তার ছোট বোন নুরজাহানকে (১৫) এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রনি বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, নিখোঁজ মা ও মেয়ের লাশ গতকাল রাতে ওই শিক্ষিকার বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই একটি অপহরণ মামলা করা হয়েছিল, যা এখন হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। ওই মামলায় মীম ও তার বোনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে ফাতেমা কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় মীম বেগমের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যায়। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পড়া শেষ করে সে মীম বেগমের বাসা থেকে বের হয়। একই সময়ে ফাতেমার মা রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে মা ও মেয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিখোঁজের পরদিন ২৬ ডিসেম্বর রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়েও কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ৬ জানুয়ারি তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে মুক্তিরবাগ এলাকার ওই বাসা থেকে মৃত প্রাণীর উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছিল। গতকাল রাতে সেই গন্ধ অসহ্য পর্যায়ে পৌঁছালে স্থানীয়রা গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মীম বেগমের বাসার সামনে যান। এলাকাবাসী মীমের ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে বললে তিনি রাজি হচ্ছিলেন না। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ মীমের বাসার শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে কর্কশিট দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মা রোকেয়া রহমানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। এরপর বাথরুমের ফলস ছাদ থেকে শিক্ষার্থী ফাতেমার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
